হামের টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়ায় হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। গাবতলীর বাগবাড়ীতে জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতালে গতকাল দুপুর পৌনে ২টার দিকে সরকার প্রধান এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সাথে ছিলেন তার মন্ত্রী ডা: জুবাইদা রহমানসহ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা: মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনের এমপি মোরশেদ মিলটন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় টিকাদান কর্মসূচিকে সরকারের অন্যতম সফল উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনতে হবে। কোনো শিশু যেন বাদ না পড়ে সে বিষয়ে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে।

জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতাল প্রাঙ্গণে সকাল থেকেই মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। স্থানীয় নারী-পুরুষ, শিশুদের অভিভাবক, স্বাস্থ্যকর্মী ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে সকাল ১০টার দিকে বগুড়া সার্কিট হাউসে পৌঁছান। এরপর তিনি জজ কোর্ট প্রাঙ্গণে জেলা আইনজীবী সমিতির নবনির্মিত ভবনের ফলক উন্মোচন করেন। পরে আদালত ভবন থেকে বগুড়াসহ সাত জেলায় ই-বেইলবন্ড কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এরপর উদ্বোধন করেন বগুড়া সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম।

রাজশাহীতে আড়াই লাখ শিশুকে টিকা দেয়া হবে

রাজশাহী ব্যুরো জানান, সারা দেশের মতো রাজশাহীতেও হাম প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। গতকাল সকালে নগরীর দড়িখরবোনা এলাকায় নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন। আগামী ১০ মে পর্যন্ত এই ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে।

কর্মসূচির আওতায় সিটি করপোরেশন এলাকায় ৫৪ হাজার ১৪৪ জন শিশুকে টিকা দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। এর মধ্যে কমিউনিটি পর্যায়ে ৪৫ হাজার ৬২৩ জন শিশুকে এবং স্কুল পর্যায়ে আট হাজার ৫২১ জন শিশুকে হামের টিকা দেয়া হবে। নগরীর ২৮৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ও ২৪০টি কমিউনিটি কেন্দ্র এবং ছয়টি স্থায়ী কেন্দ্রে এই টিকাদান কর্মসূচি চলবে।

এ ছাড়া রাজশাহীর ৯টি উপজেলায় দুই লাখ এক হাজার ৯৭৬ জন শিশুকে হামের টিকার আওতার আনতে কার্যক্রম শুরু করেছে সিভিল সার্জন অফিস। এরমধ্যে কমিউনিটি পর্যায়ে এক লাখ ৮৮ হাজার ৩৭৯ জন এবং স্কুল পর্যায়ে ১৩ হাজার ৫৯৭ জন শিশুকে টিকাদানের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।

রংপুরে টিকা কেন্দ্রে লাইন

রংপুর ব্যুরো জানান, শুরু হয়েছে রংপুর মহানগরসহ বিভাগে ১৭ লাখ ৬৬ হাজার শিশুকে হাম- রুবেলার টিকাদান কার্যক্রম। টিকা নিতে শিশুদের নিয়ে কেন্দ্রে কেন্দ্রে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছেন অভিভাবকরা।

গতকাল সকালে মহানগরীর রবার্টসন্সগঞ্জ মাঠে ও নগর ভবন ক্যাম্পাসে পৃথকভাবে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন প্রধান বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম ও সিটি করপোরেশন প্রশাসক মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন। রবার্টসন্সগঞ্জ মাঠে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা: গওসুল আজিম চৌধুরী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- সিটি প্রশাসক মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন, রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম প্রমুখ। অন্য দিকে নগর ভবনের ক্যাম্পেইনে সভাপতিত্ব করেন সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: কামরুজ্জামান ইবনে তাজ। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দফতর জানিয়েছে, বিভাগের আট জেলায় ১৭ লাখ ৬৬ হাজার ৫০ জন শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা খাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছে। এ জন্য এক হাজার ৮৫৬ জন ভেকসিনেটর নিয়োগ দেয়া হয়েছে। জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ডে ১৩ হাজার ৫৭১ কেন্দ্র থেকে এই টিকা দেয়া হচ্ছে।

অন্য দিকে প্রতিদিন ৩৮টি টিমের তত্ত্বাবধানে ২৮০টি কেন্দ্রের মাধ্যমে রংপুর মহানগর এলাকায় ৮০ হাজার শিশুকে এই টিকা দেয়ার কার্যক্রম শুরুর কথা জানিয়েছে সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ। শুক্রবার বাদে আগামী ২০ মে পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দেয়া হবে এই টিকা।

টিকা দান শুরু হওয়ায় খুশি অভিভাবকরা। নগর ভবনে কন্যা আরসানাকে টিকা দিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে মা আমিনা আখতার জানালেন, ‘ভালো পরিবেশে মেয়েকে টিকা দিতে পারলাম। এটা আল্লাহর কাছে শুকরিয়া করছি। খুব টেনশেন ছিলাম। আল্লাহ টেনশন মুক্ত করলেন।’

অপর অভিভাবক সাজিদ আরমান শাকিল এসেছেন তার আট মাসের ছেলে সানজিদকে নিয়ে। তিনিও সন্তানকে টিকা দিতে পেরে খুব খুশি। তিনি জানান ‘একটা অনকে বড় টেনশন কমে গেল। দেশে যেভাবে হাম-রুবেলার প্রাদুর্ভাব তাতে খুব শঙ্কিত ছিলাম। আল্লাহর রহমতে শঙ্কা কাটল।

সিলেটে উদ্বোধন করলেন বাণিজ্যমন্ত্রী ও সিসিক প্রশাসক

সিলেট ব্যুরো জানায়, সিলেটে মাসব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন গতকাল শুরু হয়েছে। এ দিন সকালে নগরের অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন বস্ত্র ও পাট এবং শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন- সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: মো: জাহিদুল ইসলাম। সিলেট সিটি করপোরেশন ও স্বাস্থ্য বিভাগীয় পরিচালকের কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সহকারী পরিচালক ডা: নূরে আলম শামীম।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন- সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা: মো: জিয়াউর রহমান চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো: সারওয়ার আলম, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তা ডা: সুফি মো: খালিদ বিন লুৎফুর, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এবং ইউনিসেফের সিলেট ফিল্ড অফিসের প্রধান মির্জা ফজলে এলাহী।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন- সিসিকের সচিব মো: আশিক নূর, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াত, অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহেদা গুলশান সিদ্দিকা প্রমুখ।

এ দিকে জৈন্তাপুরে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

গাজীপুরে লক্ষাধিক শিশু টিকার আওতায়

বাসস জানায়, গাজীপুরে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬-এর উদ্বোধনের মাধ্যমে শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ব্যাপক কর্মসূচি শুরু হয়েছে। গতকাল নগরীর জয়দেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের (গাসিক) প্রশাসক মো: শওকত হোসেন সরকার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্যাম্পেইনের শুভ উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সোহেল হাসান। আরো উপস্থিত ছিলেন- ভারপ্রাপ্ত সচিব মুহাম্মদ সানিউল কাদের, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুদীপ বসাক, সিভিল সার্জন ডা: মোঃ মামুনুর রহমানসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধিরা, শিক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মীরা। গতকাল শুরু হওয়া দেশব্যাপী হামের টিকাদান ক্যাম্পেইনের অধীনে গাসিকের ৫৭টি ওয়ার্ডে ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা দেয়া হবে।

সিটি করপোরেশনের আওতাধীন অঞ্চলগুলোতে পাঁচটি স্থায়ী কেন্দ্র, ১২৪টি অস্থায়ী কেন্দ্র এবং পাঁচটি মপ-আপ টিম কাজ করছে। কর্মজীবী মায়েদের শিশুদের জন্য বিশেষ সান্ধ্যকালীন টিকাদান ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এ কার্যক্রমের আওতায় সিটি করপোরেশনের পাঁচটি অঞ্চলে মোট এক লাখ ৭৬ হাজার ১৩১ জন শিশুকে টিকা দেয়া হবে। অপর দিকে কোনাবাড়ি, কাশিমপুর ও কাউলতিয়া এলাকায় আরো ৮১ হাজার ৭৭১ জন শিশুকে সিভিল সার্জনের তত্ত্বাবধানে টিকা দেয়া হবে।