কেরানীগঞ্জে হাসপাতালে শিক্ষকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি

Printed Edition

ঢাকা জেলা প্রতিনিধি

কেরানীগঞ্জের ঝিলমিল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাদরাসা শিক্ষক আবু হানিফের মৃত্যুতে চিকিৎসায় অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। বুধবার কমিটির সদস্যরা হাসপাতাল পরিদর্শন করে অপারেশন ও চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিপত্র সংগ্রহ করেছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: মো: আব্দুল মুকাদ্দেস এ তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে কেরানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা: মাহাবুবা আক্তারকে। সদস্যসচিব হিসেবে রয়েছেন ডা: ইমরান এবং সদস্য হিসেবে ডা: নাদিম।

পরিদর্শন শেষে ডা: মাহাবুবা আক্তার বলেন, সংগ্রহ করা অপারেশন ও চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছে জমা দেয়া হবে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। নিহত আবু হানিফ কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া চৌরাস্তা এলাকায় থাকতেন। তার বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায়।

পরিবারের অভিযোগ, গত ২৫ জুলাই পাইলসের চিকিৎসার জন্য তিনি কদমতলীর ইবনে সিনা হাসপাতালের সার্জারি বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক ডা: মোহাম্মদ আবু খায়েরের কাছে যান। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ২৭ জুলাই বিকেলে তাকে ঝিলমিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত ১টার দিকে অস্ত্রোপচার হয়। অস্ত্রোপচারের পর বেডে নেয়ার কিছুক্ষণ পরই তার মৃত্যু হয়। পরিবারের দাবি, অস্ত্রোপচার শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও স্টাফদের দেয়া চিকিৎসার পর তার অবস্থার অবনতি ঘটে। তারা এ ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলেছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসক। হাসপাতালের ম্যানেজার নারায়ণ সরকার বলেন, ‘ভুল চিকিৎসা হয়েছে কি না তা বলতে পারছি না। রাতে রোগীর অবস্থার অবনতি হলে তাকে বাঁচানোর জন্য মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়।’ অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসক ডা: মোহাম্মদ আবু খায়ের বলেন, ‘চিকিৎসায় কোনো ভুল হয়নি। অস্ত্রোপচারের পর রোগীকে বেডে দেয়া হয়। তিনি স্ট্রোক করতে পারেন।’

মৃত্যুর পর পরিবারের সদস্যরা ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ গ্রহণ করে গ্রামের বাড়িতে দাফন করেন। তারা মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক হরি চাঁদ বলেন, পরিবার অভিযোগ বা মামলা করলে পুলিশ সহযোগিতা করবে। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।