প্রশিক্ষণ বাকি রেখেই শেষ হচ্ছে আইসিটি শিক্ষা প্রকল্প

শাহেদ মতিউর রহমান
Printed Edition

  • প্রশিক্ষণ পায়নি দুই লাখ ১৫ হাজার শিক্ষক
  • তহবিলে অব্যবহৃত এক হাজার @২০ কোটি টাকা
  • প্রকল্পের মেয়াদ আরো দুই বছর বৃদ্ধির দাবি

দুই লাখেরও বেশি শিক্ষককে প্রশিক্ষণের বাইরে রেখেই আগামী জুনে শেষ হচ্ছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে আইসিটির মাধ্যমে শিক্ষা প্রচলন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়। বিগত সরকারের আমলে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বারবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন ও বিলম্বে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কারণে সুযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রকল্পের অনেক কাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটির মেয়াদ আরো দুই বছর বাড়ানো হলে অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব। এতে বাড়তি কোনো বাজেটেরও প্রয়োজন হবে না, কারণ প্রকল্পে এখনো প্রায় এক হাজার ২০ কোটি টাকা অব্যবহৃত রয়েছে। বিদ্যমান অবকাঠামো ও দক্ষ জনবল কাজে লাগিয়ে বাকি দুই লাখ ১৫ হাজার ৮২৪ জন শিক্ষককে প্রশিক্ষণ এবং অবশিষ্ট ৩২ হাজার ২২৫টি মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ স্থাপন করা সম্ভব বলে তারা মনে করছেন। এতে শিক্ষায় আইসিটির ব্যবহার আরো জোরদার হবে এবং আধুনিকায়নে গতি আসবে।

প্রকল্প সূত্র জানায়, শিক্ষাদান প্রক্রিয়া আধুনিকায়ন, দক্ষ ও বিজ্ঞানমনস্ক শিক্ষক তৈরি এবং আইসিটিভিত্তিক জ্ঞান বিস্তারের লক্ষ্যে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। প্রথমে ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ নির্ধারণ করা হলেও পরে তা বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়।

এই প্রকল্পের আওতায় ১৩ ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পাঁচ লাখ ২১ হাজার ১১২ জন শিক্ষককে প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা ছিল। পাশাপাশি ৩৬ হাজার ৮৪টি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও ৬৬৮টি প্রশিক্ষণ/কনফারেন্স রুম স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। এখন পর্যন্ত তিন লাখ পাঁচ হাজার ২৮৮ জন শিক্ষক প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। এ ছাড়া ১৩ হাজার ৫৩৪টি ইন্টারনেট মডেম বিতরণ এবং তিন হাজার ৮৫৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট বরাদ্দের মাত্র ২৪ দশমিক ৩২ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ৩২৭ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।

প্রকল্পটির প্রথম পর্যায় শুরু হয় ২০১১ সালে। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে এক হাজার ৩৫৩ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয়। তবে মাঝপথে পরিকল্পনায় একাধিক পরিবর্তন আনা হয়। ২০২৫ সালের মে মাসে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমে স্মার্ট টিভির পরিবর্তে ইন্টারেকটিভ এডুকেশন প্যানেল (আইইপি) অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও ছয় মাসের মধ্যে আবার আগের পরিকল্পনায় ফিরে আসা হয়। এতে কাজের গতি ব্যাহত হয়।

প্রকল্প পরিচালক প্রফেসর মো: সাহেদুল কবির নয়া দিগন্তকে জানান, সিদ্ধান্ত পরিবর্তন, মামলা এবং দীর্ঘ সময় কাজ বন্ধ থাকার কারণে প্রকল্পের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। প্রকল্প মেয়াদের মধ্যে প্রায় পাঁচ বছর চার মাস কার্যক্রম স্থবির ছিল। ফলে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি প্রায় ২২ শতাংশ, বাকি ৭৮ শতাংশ অর্থ অব্যবহৃত রয়েছে। তাই মেয়াদ বাড়ানো হলে শতভাগ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব।

এ দিকে বর্তমান সরকারের পরিকল্পনায়ও শিক্ষা খাতে আইসিটির ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে আইসিটি, কারিগরি ও বিদেশী ভাষা শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে বিদেশে পড়াশোনার জন্য শিক্ষার্থীদের বিনাশর্তে ঋণ দেয়ার বিষয়েও উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটির মেয়াদ বৃদ্ধি পেলে শুধু অপূর্ণ কাজ শেষই নয়, বরং দেশের শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়নে বড় ধরনের অগ্রগতি সম্ভব হবে।