আতিয়ার রহমান জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা)
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের মাধবখালী গ্রামে সরকারি রেকর্ডভুক্ত দু’টি রাস্তার জমি দখল করে ধান চাষ ও আমবাগান করার অভিযোগ উঠেছে মনিরুল ইসলাম ও কামরুল ইসলাম নামে স্থানীয় দুই আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। এতে করে দীর্ঘ দিন ধরে কৃষক, শিক্ষার্থী, মুসল্লিসহ গ্রামবাসীদের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সম্প্রতি উপজেলা ভূমি অফিস সরকারি নকশা অনুযায়ী রাস্তার জমি পরিমাপ করে সীমানা পিলার স্থাপন করে। কিন্তু সেই পিলার সরিয়ে আবারো রাস্তার জমিতে ধান রোপণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত মনিরুল ইসলাম ও কামরুল ইসলাম দীর্ঘ দিন ধরে সরকারি রাস্তার জমি দখল করে বিভিন্ন স্থানে চাষাবাদ ও আমবাগান করেছেন। এতে কৃষকদের মাঠে যাতায়াত, ফসল পরিবহন এবং পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদ ও মাদরাসায় যাওয়া-আসা ব্যাহত হচ্ছে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে দুই দফা গণ-আবেদনও দেয়া হয়েছে।
মাধবখালী রেসালাতুল কুরআন মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মিন্টু মিয়া বলেন, রাস্তা দখল হয়ে যাওয়ায় শিশু শিক্ষার্থীদের বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা ঝুঁকিপূর্ণ। জীবননগর উপজেলা কৃষক জোটের সাধারণ সম্পাদক রাজেদুল ইসলামও রাস্তা দখলের কারণে কৃষকদের ভোগান্তির কথা তুলে ধরেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কামরুল ইসলাম। তার দাবি, তাদের পরিবার দীর্ঘ দিন ধরে ওই জমি ভোগদখল করছে এবং পূর্বপুরুষরা জমিটি বৈধভাবে কিনেছিলেন। তাই তারাই ওই জমির বৈধ মালিক।
উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার সজিব হোসেন বলেন, সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী মোট ৭৯ শতক রাস্তার জমি পরিমাপ করে সীমানা পিলার স্থাপন করা হয়েছে। পরে পিলার অপসারণের বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে।
সরকারি রাস্তা দখলমুক্ত করে জনসাধারণের চলাচল নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।



