একের পর এক অভিযানে বদলাতে শুরু করেছে অপরাধচিত্র!

ক্রাইম জোন মোহাম্মদপুর

রাজধানীর ক্রাইম জোন হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদপুরে অপরাধের লাগাম টানতে লাগাতার অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। গত তিন দিনে মোহাম্মদপুর আদাবর এলাকা থেকে আড়াই শতাধিক অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, নির্দিষ্ট কোনো সময় বেঁধে নয়, বরং প্রতিটি মুহূর্তে পুলিশি অভিযানের মধ্যে রাখা হচ্ছে বৃহত্তর মোহাম্মদপুর এলাকাকে। যাতে করে অপরাধীরা সময় বুঝে নিজেদের আত্মগোপনে রাখতে না পারে।

আমিনুল ইসলাম
Printed Edition

  • পরিদর্শনে আইজিপি
  • ৩ দিনে গ্রেফতার আড়াই শতাধিক

রাজধানীর ক্রাইম জোন হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদপুরে অপরাধের লাগাম টানতে লাগাতার অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। গত তিন দিনে মোহাম্মদপুর আদাবর এলাকা থেকে আড়াই শতাধিক অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, নির্দিষ্ট কোনো সময় বেঁধে নয়, বরং প্রতিটি মুহূর্তে পুলিশি অভিযানের মধ্যে রাখা হচ্ছে বৃহত্তর মোহাম্মদপুর এলাকাকে। যাতে করে অপরাধীরা সময় বুঝে নিজেদের আত্মগোপনে রাখতে না পারে।

২০২৪ এর ৫ আগস্টের পর রাজধানীর ৫০ থানার মধ্যে ক্রাইম জোনে পরিণত হয় মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকা। এখানে প্রকাশ্য দিবালকে চাপাতি নিয়ে মহড়া, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, চুরি, ডাকাতি এমনকি হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটেছে। সাধারণ জনগণ রাস্তায় বের হওয়ার আগে কয়েকবার চিন্তা করে নিতেন ছিনতাই, ডাকাতির কথা। ক্ষতিগ্রস্তদের থানা ঘেরাও যেন স্বাভাবিক ঘটনা ছিল। সেই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে শুরু হয় একের পর এক পুলিশি অভিযান। অন্য যে কোনো থানার চাইতে কয়েক গুণ বেশি অপরাধী গ্রেফতার হওয়ার পরও নতুন নতুন ঘটনার জন্ম দিচ্ছে এই এলাকার অপরাধীরা। পুলিশের সাথে সেনাবাহিনীও একাধিক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধারসহ অপরাধীদের গ্রেফতার করেছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও জোনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেন, মোহাম্মদপুরের অপরাধের ধরন ও প্রকৃতি বুঝে কৌশল পরির্বতন করে একের পর এক অভিযান চালানো হচ্ছে। কখনো তেজগাঁও জোনের ডিসি ইবনে মিজান অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, কখনো নির্দেশনা। যার কারণে ইতোমধ্যে মোহাম্মদপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্র বলছে, মোহাম্মদপুর এলাকায় বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা প্রায় ১৬ লাখ। এর মধ্যে রয়েছে কয়েকটি বিহারি ক্যাম্প, একাধিক বস্তি। বিহারি ক্যাম্পের ভেতরে খুবই ঘিঞ্জি পরিবেশ। যেখানে ঢুকলে রাস্তা চিনে বের হওয়াই কঠিন ব্যাপার। অপরাধীরা এই এলাকায় ঢুকে খুব সহজেই গা ঢাকা দিতে পারে। এখানে অভিযানে গেলে প্রবেশমুখ থেকে পুলিশের আগমনের বার্তা পুরো এলাকায় ছড়িয়ে যায়। এতে করে ক্যাম্প ও বস্তির বাসিন্দারা অপরাধীকে নানান কৌশলে লুকিয়ে রাখে।

আইজিপি মো: আলী হোসেন ফকির নতুন দায়িত্ব নেয়ার দুই দিন পরই মাঝরাতে ছুটে যান মোহাম্মদপুর এলাকায়। তিনি কয়েকটি সড়ক পরিদর্শন করে ওই সব এলাকার আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে তদারকি করেন। আইজিপি বলেন, কিশোর গ্যাং, ছিনতাইকারী ও মাদক কারবারিদের তৎপরতায় সাধারণ মানুষ ভীতির মধ্যে আছেন। এ কারণে আমি নিজেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাস্তায় নেমেছি। ‘নিজে রাস্তায় থাকলে সহকর্মীরা কাজে উৎসহ পাবেন, সহাস পাবেন’। অপরাধী যেই হোক তাদেরকে কঠোর হস্তে দমন করা হবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

আইজিপি স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, ১৯৮৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে এক আত্মীয়ের বাসায় যাওয়ার পথে মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছিলেন আইজিপি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি মনে করেন, মোহাম্মদপুর দীর্ঘদিন ধরেই অপরাধপ্রবণ এলাকা, যেখানে নি¤œ আয়ের মানুষের পাশাপাশি ভাঙ্গাড়ি ও বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসার বিস্তার রয়েছে।

জানতে চাইলে ডিএমপির তেজগাঁও জোনের ডিসি ইবনে মিজান নয়া দিগন্তকে বলেন, ৫ আগস্টের পর ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মহড়া, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ছিল নিত্যদিনের ব্যাপার। পুলিশের ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশনায় সেই ভয়াবহ অবস্থা থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে মোহাম্মদপুরকে। প্রতিনিয়ত মোহাম্মদপুরের অলিগলিতে অভিযান চালানো হচ্ছে। গ্রেফতার করা হচ্ছে একের পর এক অপরাধীকে। যার কারণে শুধু মোহাম্মদপুর থানার গ্রেফতারের সংখ্যা অন্য যে কোনো থানার চাইতে কয়েক গুণ বেশি। তিনি বলেন, আগের তুলনায় অনেকটাই কমেছে মোহাম্মদপুরের আপরাধ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সব প্রচেষ্টায় আগামীতে আরো কমে যাবে বলে আশা করেন ইবনে মিজান।