সোনাতলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১১৬ শিক্ষকের পদ শূন্য

প্রধান শিক্ষক না থাকায় জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষককে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। আবার কোনো কোনো বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক কম থাকায় বিদ্যমান শিক্ষকদের অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হচ্ছে

Printed Edition

মিনাজুল ইসলাম মিজান সোনাতলা (বগুড়া)

বগুড়ার সোনাতলায় ১২৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে ১১৬টি শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষকের ৫৬টি এবং সহকারী শিক্ষকের ৬০টি পদ শূন্য। বিপুলসংখ্যক শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় এক দিকে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও দাফতরিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, অন্য দিকে স্বাভাবিক পাঠদানও মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে সন্তানদের পড়াশোনা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, সোনাতলা উপজেলা একটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নে মোট ১২৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক মিলিয়ে মোট ১১৬টি পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সঙ্কট চলছে। কোথাও প্রধান শিক্ষক না থাকায় জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষককে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। আবার কোনো কোনো বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক কম থাকায় বিদ্যমান শিক্ষকদের অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হচ্ছে। ফলে প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে কাক্সিক্ষত পাঠদান নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

শিক্ষক সঙ্কটের কারণে বিদ্যালয়ের দৈনন্দিন কার্যক্রমেও চাপ তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে সব শ্রেণীর পাঠদান, দাফতরিক কাজ ও শিক্ষার্থীদের যথাযথভাবে দেখভাল করতে গিয়ে শিক্ষকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। শিক্ষক সঙ্কট থাকায় অভিভাবকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সঙ্কট চলছে। প্রধান শিক্ষকসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষকের পদ খালি থাকায় নিয়মিত ক্লাস হচ্ছে না। কর্মরত দু-একজন শিক্ষক অতিরিক্ত ক্লাস ও প্রশাসনিক চাপ নিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন।

অভিভাবকরা জানান, আমাদের সন্তানদের পাঠদান চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার মান দিন দিন নিচে নেমে যাচ্ছে।

কোমলমতি শিশুদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় অবিলম্বে নতুন শিক্ষক নিয়োগের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ইতিয়ারা পারভীন বলেন, শিগগিরই সরকার শূন্য পদের বিপরীতে শিক্ষক নিয়োগ দেবে। শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন হলে বিদ্যালয়গুলোর চলমান শিক্ষক সঙ্কটের সমাধান হবে।