পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) সংবাদদাতা
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দরে কাস্টমস নিয়ন্ত্রিত এলাকার বাইরে ভারত ও ভুটান থেকে আসা পাথরবোঝাই ট্রাক খালাসের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কাস্টমসের নির্ধারিত ৩ কিলোমিটার এলাকার অন্তত দুই কিলোমিটার বাইরে এসব ট্রাক আনলোড করা হচ্ছে, যা নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
সরেজমিন দেখা গেছে, বুড়িমারী আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশে উফরমারা ঘুণ্টি বাজার পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার, দক্ষিণে মেডিক্যাল এলাকা পেরিয়ে এক কিলোমিটার এবং উত্তরে ধরলা সেতু অতিক্রম করে আরো এক কিলোমিটার দূর পর্যন্ত পাথরবোঝাই ট্রাক সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। অনেক সময় এসব ট্রাক রাত পর্যন্ত খালাস করা হয়।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, নির্বাচনের সময়কে সামনে রেখে এসব ট্রাকের আড়ালে অবৈধ অস্ত্র বা সন্দেহজনক পণ্য প্রবেশ করতে পারে। তাদের মতে, কাস্টমসের শুল্কায়ন ও তল্লাশি প্রক্রিয়ার বাইরে কোনো আমদানিকৃত ট্রাক বন্দরের বন্ডেড এরিয়ার বাইরে থাকা উচিত নয়। সীমান্তবর্তী এলাকায় এমন অবাধ চলাচল নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বাসিন্দা বলেন, ‘পাথরের ট্রাকের আড়ালে কী আসছে, তা সাধারণ মানুষের জানার উপায় নেই। নির্বাচনের আগে এ কারণে আমরা উদ্বিগ্ন।’ তিনি জানান, অতীতে ভারত ও ভুটান থেকে আসা ট্রাকে শিশা, মাদক, কসমেটিকস, ওষুধ ও কাপড়সহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ পণ্য উদ্ধার হয়েছে।
বুড়িমারী বন্দরে স্ক্যানার ও প্রয়োজনীয় জনবলের ঘাটতি ও ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কাস্টমস এলাকার বাইরে শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর পর্যন্ত কয়েকটি ক্রাশিং সাইটে ২০ থেকে ২৪ চাকার ৩০ থেকে ৪০টি ট্রাক আনলোডের অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে। এসব ট্রাক অনেক সময় তদারকি ছাড়াই খালাস করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বুড়িমারী কাস্টমসের সহকারী কমিশনার দেলোয়ার হোসেন বলেন, বন্দরের নিরাপত্তার আওতায় নিয়মিত নজরদারি ও তল্লাশি চলছে। তবে কাস্টমস এলাকার বাইরে ট্রাক না রাখতে বলা হলেও ব্যবসায়ীরা তা মানছেন না। লেবার সঙ্কটসহ নানা অজুহাতে তারা অনেক সময় রাতেও আনলোড করে।
পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হোসেন বলেন, তিনি সদ্য দায়িত্ব নিয়েছেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি জানান, নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো শৈথিল্য বরদাশত করা হবে না। স্থানীয়দের দাবি, নির্বাচনের আগে বুড়িমারী স্থলবন্দরে বিজিবি ও পুলিশের যৌথ নজরদারি আরো জোরদার করা প্রয়োজন। দ্রুত ও স্বচ্ছ পদক্ষেপ নিলে জনমনে আস্থা ফিরবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



