নিজস্ব প্রতিবেদক
চলমান শৈত্যপ্রবাহ ও অতিরিক্ত ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় দেশের বোরো মৌসুমের শুরুতেই ধানের বীজতলা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কমে যাওয়ায় বীজতলার চারার স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ উৎপাদনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ অবস্থায় সতর্ক ও সময়োপযোগী ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)।
ব্রির অ্যাগ্রোমেট ল্যাব জানায়, চলমান ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় বোরো ধানের বীজতলাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। অ্যাগ্রোমেট ল্যাবের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. নিয়াজ মো: ফারহাত রহমান বলেন, এই সময়ে ঠাণ্ডার কারণে চারার বৃদ্ধি স্বাভাবিকের তুলনায় ধীর হয়ে যায়। একই সাথে চারা পোড়া রোগ ও থ্রিপস পোকার আক্রমণের আশঙ্কা বেড়ে যায়, যা বীজতলার জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তিনি বলেন, শুরুতেই যদি বীজতলার যতেœ ঘাটতি থাকে, তাহলে পরে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
ঠাণ্ডাজনিত ক্ষতি কমাতে বীজতলার পানিব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানান তিনি। ড. নিয়াজ মো: ফারহাত রহমান বলেন, বীজতলায় তিন থেকে পাঁচ সেন্টিমিটার পানি ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরি। এতে মাটির তাপমাত্রা কিছুটা উষ্ণ থাকে এবং চারার ওপর ঠাণ্ডার বিরূপ প্রভাব কমে। পাশাপাশি সুষম মাত্রায় জৈব সার ও ইউরিয়া প্রয়োগ করলে চারার পুষ্টি চাহিদা পূরণ হয়, শিকড়ের বৃদ্ধি স্বাভাবিক থাকে এবং চারার সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো হয়।
তিনি আরো বলেন, এই সময় অতিরিক্ত বা অসম মাত্রায় সার প্রয়োগ থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ অতিরিক্ত ইউরিয়া চারাকে দুর্বল করে ফেলতে পারে এবং রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই কৃষকদের উচিত স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী সার ব্যবস্থাপনা করা।



