ক্রীড়া প্রতিবেদক
- ১৮ সেপ্টেম্বর লিগ এবং ২২ সেপ্টেম্বর ফেডারেশন কাপ শুরুর তারিখ বহাল
- খেলা পেছালে না খেলার হুমকি ফর্টিসের
কোনো ধরনের বিঘœ ছাড়া লিগ শুরু এবং শেষ করতে হবে। সে সাথে পেশাদার লিগ কমিটিতে থাকতে হবে ক্লাব প্রতিনিধি। দিতে হবে প্রাইজমানি ও অংশগ্রহণ ফি’র। এই ইস্যুগুলো সামনে এনে ৮ ক্লাবের জোটের অবস্থান মূলত তারা ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে লিগ খেলতে চায় না তারা। আসিয়ান কাপ ও সাফ ফুটবলের পর তারা একটানা লিগ খেলতে চায়। তবে মোহামেডানের নেতৃত্বে করা ক্লাবগুলোর এই দাবি আমলে নেয়নি বাফুফের পেশাদার লিগ কমিটি। তারা পূর্ব ঘোষিত তারিখেই বাংলাদেশ ফুটবল লিগ ও ফেডারেশন কাপ মাঠে গড়ানোর ঘোষণায় বহাল আছে। গতকাল লিগ কমিটির সভা শেষে এই ঘোষণা দেন পেশাদার লিগ কমিটির চেয়ারম্যান ইমরুল হাসান। তখন উপস্থিত ছিলেন দেশের শীর্ষ ক্লাবের কর্মকর্তারা।
গতকাল এই সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনের আগে ফেডারেশন কাপের ড্র-ও অনুষ্ঠিত হয়। এতে ‘এ’ গ্রুপে পড়েছে ঢাকা আবাহনী, ফর্টিস এফসি, রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটি, ব্রাদার্স ইউনিয়ন, ইয়ংম্যান্স ক্লাব ফকিরেরপুল ও চট্টগ্রাম সিটি এফসি। অন্য দিকে ‘বি’ গ্রুপে আছে ফেডারেশন কাপের চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস, বাংলাদেশ পুলিশ, মোহামেডান, পিডব্লিউডি, আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ, সিটি ক্লাব ও ঢাকা ওয়ান্ডারার্স। ফেডারেশন কাপের খেলাগুলো হবে চার স্টেডিয়ামে। এর মধ্যে জাতীয় স্টেডিয়ামে খেলা হবে ২৪ নভেম্বর থেকে। অর্থাৎ এই স্টেডিয়ামে সাফ ফুটবল শেষ হওয়ার পর। তবে ফেডারেশন কাপের প্রথম চারটি ম্যাচ ডের খেলার ভেনু গোপালগঞ্জ স্টেডিয়াম, মানিকগঞ্জ শহীদ মিরাজ-তপন স্টেডিয়াম ও মুন্সীগঞ্জের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মতিউর রহমান স্টেডিয়াম। প্রতি দিন তিনটি করে ম্যাচ হবে। গতকাল লটারির মাধ্যমে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ফেডারেশন কাপের কোন কোন খেলা কোন কোন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে তা নির্ধারিত হয়। যদিও আসরের চার নকআউট পর্বের ম্যাচ জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে।
ফেডারেশন কাপে বাংলাদেশ ফুটবল লিগের ১৩টি দলই অংশ নিচ্ছে। দুই গ্রুপ শেষে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন দুই দল ফাইনালে যাওয়ার কোয়ালিফায়ার রাউন্ড-১-এ খেলবে। এর আগে অবশ্য দুই গ্রুপ রানার্সআপ দল ইলিমিনেশন রাউন্ডে খেলবে। এই ম্যাচের জয়ী দল কোয়ালিফায়ার রাউন্ড-২-তে খেলবে কোয়ালিফায়ার রাউন্ড-১-এ হেরে যাওয়া দলের সাথে। এই খেলার জয়ীরা ফাইনাল খেলবে দুই গ্রুপ চ্যাম্পিয়নের জয়ী দলের বিপক্ষে।
লিগ কমিটির আশাবাদ যথাসময়েই খেলা শুরু হবে। এর পরও সংশয় থেকে যাচ্ছে। কারন মোহামেডান এখনো অনুশীলন শুরু করেনি। ঘুমিয়ে আছে আরো কয়েক ক্লাব। অথচ ছয় ক্লাব অনুশীলন শুরু করেছে। ফুটবলারদের নিয়ে মাঠে নামা ক্লাবগুলো হলো- বসুন্ধরা কিংস, ঢাকা আবাহনী, রহমতগঞ্জ, ফর্টিস এফসি, সিটি ক্লাব ও বাংলাদেশ পুলিশ। সাদা কালো শিবিরের কর্মকর্তাদের যুক্তি তাদের ৯ জন ফুটবলার সিনিয়র জাতীয় দলে। তারা সিনিয়র জাতীয় দলের ফুটবলারদের ছাড়া অনুশীলন শুরু করবে না। উল্লেখ্য, ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া আসিয়ান কাপ এবং নভেম্বরের সাফ ফুটবল।
এ দিকে এএফসি চ্যালেঞ্জে লিগের গ্রুপ পর্বে কোয়ালিফাই করা ফর্টিস এফসির সভাপতি শাহীন হাসান জানান, ‘যদি ১৮ সেপ্টেম্বর লিগ শুরু না হয় তাহলে ফর্টিস আর ফুটবলেই থাকবে না।’ তার যুক্তি, ‘আমরা ফুটবলারদের অনুশীলনে রেখেছি। কোটি টাকার উপরে খরচ করে ফেলেছি। এখন যদি খেলা পিছিয়ে যায় তাহলে আমার এই ফিট খেলোয়াড়দের ফিটনেস লেভেলটা শূন্যতে নেমে আসবে। তখন আবার তাদের ফিট করে তুলতে অর্থ ও সময় সবই নষ্ট হবে। তা ছাড়া আমরা যদি লিগের ম্যাচ খেলতে পারতাম তাহলে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের প্রস্তুতিটা ভালো হতো।
ক্লাবগুলো বাফুফে সভাপতি বরাবর চিঠি দিয়েছে। বাফুফে সভাপতি কবে বসবে তাদের সাথে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে এরই মধ্যে লিগ কমিটি তাদের সভা করে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে দিয়েছে। ইমরুল হাসান জানান, আমরা আসিয়ান কাপের সময় লিগের দুই রাউন্ডের খেলা শেষ করতে চাই। আমরা লিগ শুরু করার স্বার্থেই এই ফিফা উইন্ডোতেও খেলা আয়োজন করতে যাচ্ছি। সাধারণত লিগ চলাকালীন সময়ে ফিফা উইন্ডোতে খেলা বন্ধ থাকে। কিন্তু আমাদের লিগই তো শুরু হয়নি।’ তিনি যোগ করেন, ক্লাবগুলো বাফুফে সভাপতি বরাবর চিঠি দিয়েছে। এরপর আমরা সভাপতির মতামতের পর তার সাথে বসব।



