জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মনোনয়ন বাতিল দাবি করে সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এতে বিশ্বাসযোগ্যতা সৃষ্টি করতে বেসরকারি টিভি চ্যানেলের স্বতন্ত্র ফুটেজ ব্যবহার করা হয়েছে। ফ্যাক্ট চেকে যা গুজব প্রমাণিত হয়েছে।
ভাইরাল ভিডিওর সত্যতা অনুসন্ধানে কাজ করেছে ‘ফ্যাক্টওয়াচ’। এতে দেখা গেছে সংবাদমাধ্যমগুলোর মূল ফুটেজ নানান কায়দায় জোড়া লাগিয়ে অডিও পরিবর্তন করে ভিডিওটি বানানো হয়েছে।
ফ্যাক্টওয়াচ ভিডিওটি বিশ্লেষণ করে আলোচিত দাবির সমর্থনে যমুনা টিভির দুইটি এবং চ্যানেল ২৪ এর আলাদা আলাদা তিনটি ভিডিও ফুটেজ ব্যবহার খুঁজে পায়। তিনটি ফুটেজেই তিনজন সংবাদ পাঠিকাকে তারেক রহমানের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া সম্পর্কিত সংবাদ পাঠ করতে শোনা যায়। এই ফুটেজগুলোর সাথে আরো কিছু অপ্রাসঙ্গিক ভিডিও ফুটেজ দেখা যায়।
এই ফুটেজগুলো ফ্লিপ করা অবস্থায় ছিল যার ফলে ভিডিওর শিরোনাম উল্টো দেখা যায়। এরপরে ফুটেজগুলোর বিভিন্ন কিফ্রেম থেকে স্ক্রিনশট নিয়ে ফ্লিপ করা অবস্থা থেকে স্বাভাবিক করা হয়। এর পরে প্রাসঙ্গিক কিছু কিওয়ার্ড ধরে সার্চ করে ইউটিউব থেকে ভিডিও ফুটেজগুলোর উৎস খুঁজে পাওয়া যায়।
যমুনা টিভির অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি আপলোড করা প্রথম ফুটেজটির পুরনো সংস্করণের একটি ভিডিও প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেদনটি ছিল মূলত দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকার কারণে চট্টগ্রাম-৯ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডাক্তার এ কেএম ফজলুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল করা সম্পর্কিত। ভিডিওতে ডাক্তার এ কে এম ফজলুল হকের নামের স্থানে তারেক রহমানের নাম ব্যবহার করা হয়েছে।
এরপরে, দ্বিতীয় ফুটেজটির পূর্ব সংস্করণ যমুনা টিভির অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে খুঁজে পাওয়া যায়। চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি আপলোডকৃত এই মূল ভিডিওতে বগুড়া-৬ আসনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া যায়। এই ভিডিওর অডিও পরিবর্তন করে তারেক রহমানের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার অডিও যুক্ত করে ভাইরাল ভিডিওতে ব্যবহার করা হয়েছে।
তৃতীয় ফুটেজটি চলতি বছরের ২ জানুয়ারি চ্যানেল ২৪ এর ইউটিউব চ্যানেল থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদনের অংশ। সেখানে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের জমা দেয়া হলফনামার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে তারেক রহমানের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার কোনো তথ্য দেয়া হয়নি।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সংবাদ উপস্থাপিকাদের কণ্ঠস্বর বিকৃত করে ফুটেজগুলোর সাথে তারেক রহমান প্রসঙ্গে ভিন্ন অডিও জোড়া লাগানো হয়েছে। অন্য দিকে নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বগুড়া-৬ এবং ঢাকা-১৭ উভয় আসনেই তারেক রহমানের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে গৃহীত হয়েছে এবং তিনি দ্বৈত নাগরিক নন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।
সুতরাং তারেক রহমানের মনোনয়নপত্র বাতিলের দাবিটি ভিত্তিহীন। ফ্যাক্ট চেকে তার মনোনয়নপত্র বাতিলের বিষয়টি গুজব বলে প্রমাণিত হয়। সবকিছু বিবেচনা করে ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া পোস্টগুলোকে ফ্যাক্টওয়াচ মিথ্যা হিসেবে সাব্যস্ত করেছে।



