যেখানে এক বিন্দুতে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে

জসিম উদ্দিন রানা
Printed Edition
ট্রফি নিয়ে দুদলের অধিনায়কের ফটোসেশন
ট্রফি নিয়ে দুদলের অধিনায়কের ফটোসেশন |সংগৃহীত

সাগরিকায় একটি জায়গায় এক বিন্দুতে মিলে গেল বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে দল। প্রথম দিন টস জিতে দারুণ ব্যাটিং করছিল জিম্বাবুয়ে। কিন্তু শেষ সেশনে তাইজুল ও সতীর্থদের ঘূর্ণিতে সাত উইকেট হারিয়ে ধসে যায় তারা। একই দশা হলো বাংলাদেশ দলেরও। গতকাল দ্বিতীয় দিনের শুরুতে দারুণ ব্যাটিং করেছে। হয়েছে সাদমান ইসলামের সেঞ্চুরি। লিড নিয়েছে ৬৪ রানের। একপর্যায়ে শান্ত বাহিনীর সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ২৫৯। ছিল বড় পুঁজির হাতছানি। কিন্তু জিম্বাবুয়ের অভিষিক্ত স্পিনার ভিনসেন্ট মাসেকেসার ঘূর্ণিতে শেষ বিকেলে ব্যাটিং-ধসে পড়ে টাইগাররা। মাত্র ১৩ ওভারে ২০ রানের মধ্যে ৪ উইকেট খুইয়ে অস্বস্তিতে দিন শেষ করে বাংলাদেশ। ৭ উইকেটে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ২৯১ রান। মেহেদী হাসান মিরাজ ১৬ রান নিয়ে দিন শেষ করেছেন। তার সাথে দিন শুরু করবেন ৫ রান করা তাইজুল ইসলাম। প্রথম ইনিংসে জিম্বাবুয়ে ২২৭ রানে অলআউট হয়েছিল।

চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিন ৯০ ওভারে ৯ উইকেটে ২২৭ রান তুলে দিন শেষ করেছিল জিম্বাবুয়ে। শেষ উইকেটে ৩০-৪০ রান যোগ করার প্রত্যাশার কথা জানিয়ে রেখেছিল সফরকারীরা। তবে দ্বিতীয় দিনে তাইজুলের প্রথম বলেই মুজারাবানি আউট হলে ২২৭ রানেই থামে জিম্বাবুয়ে। ২৭.১ ওভার বোলিং করে ৬০ রানে ৬ উইকেট পেলেন তাইজুল। দ্বিতীয় দিন শেষে প্রথম ইনিংসে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ২৯১ রান। ক্রিজে আছেন মিরাজ ৩৭ বলে ১৬ এবং তাইজুল ১১ বলে ৫ রানে।

শুরুতে অবশ্য কিছুটা নড়বড়ে ছিলেন তিন বছর পর টেস্ট খেলতে নামা এনামুল। বলের ডেলিভারি বুঝতে না পারায় দ্বিতীয় বলই লাগে তার হেলমেটে। এরপরও কয়েকটি ডেলিভারি ঠিকঠাক খেলতে পারেননি। ফুট ওয়ার্কও ছিল বেসামাল। সময় নিয়ে ক্রমেই সামলে ওঠেন এনামুল। অন্য প্রান্তে সাদমান শুরু থেকেই ছিলেন সাবলীল। ৩২ ইনিংস পর ওপেনিংয়ে শত রানের জুটি গড়েন সাদমান ও এনামুল। টেস্ট একাদশে ফিরে খুব বড় ইনিংস খেলতে পারেননি বিজয়। ৩২তম ওভারে ব্যক্তিগত ৩৯ রান করে ফিরে যান। টেস্টে যা তার সর্বোচ্চ ইনিংস। ৮০ বল খেলে ওই ইনিংস খেলার পথে সাদমান ইসলামের সাথে ১১৮ রানের জুটি গড়েন বিজয়।

ওপেনিং জুটি ভালো হলেও সেট হয়ে সাজঘরে ফিরেন মুমিনুল হক। তিনি ৩৩ রান করেন। চারে নামা নাজমুল শান্ত (২৩) কিংবা পাঁচে নামা মুশফিকুর রহীমেরও (৪০) একই দশা হয়। তবে ওপেনার সাদমান ইসলাম সেঞ্চুরি করে দলকে ভালো অবস্থানে রেখে যান। তিনি টেস্ট ২২ টেস্টের ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরির ইনিংস ১২০ রানে নিয়ে থামেন। সাদমান আউট হন দলীয় ১৯৪ রানে।

জাকের আলিকে সাধারণত টি-২০ ব্যাটার মনে করা হচ্ছিল। অথচ সেরাটা দেখা যাচ্ছে টেস্টে। ক্যারিয়ারের ৪ টেস্টেই ফিফটির দেখা পেয়েছেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার। অবশ্য কাল ব্যর্থ। টাইগারদের ব্যাটিং লাইন আপ আরেকটু দীর্ঘায়িত হতে পারত। তবে বিকেলের দিকে তাসের ঘরের মতো পড়তে থাকে বাংলাদেশের উইকেট। মাত্র ৩৮ রানের ব্যবধানে সাজঘরে ফিরলেন চার ব্যাটার। যেখানে শুরুটা হয় অধিনায়ক শান্তর হাত ধরে। অফ স্টাম্পের বাইরে বলে শর্ট মিডউইকেটে ওয়েলচকে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক (২৩)। তারই ফেরার চার ওভারের মাথায় ফেরেন জাকের আলি (৫)। এরপর একই পথ ধরেন মুশফিকুর রহীমও। ৫৯ বলে ৪০ রান করে ফেরেন তিনি। অযথা রান নিতে গিয়ে রান আউট হয়ে। ৮২ ওভারে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে মাঠ ছাড়েন নাঈম হাসান (৩)। মাসাকেসা তিনটি, একটি করে উইকেট নেন, মাসাকাদজা, মুজারাবানি ও বেনেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

জিম্বাবুয়ে প্রথম ইনিংস : ৯০.১ ওভারে ২২৭ (ওয়েলচ ৫৪, উইলিয়ামস ৬৭, তানজিম ১/৪৯, তাইজুল ৬/৬০, নাঈম ২/৪২)।

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ৮৭ ওভারে ২৯১/৭ (সাদমান ১২০, এনামুল ৩৯, মুমিনুল ৩৩, শান্ত ২৩, মুশফিক ৪০, জাকের ৫, মিরাজ ১৬*, নাঈম ৩, তাইজুল ৫*, মুজারাবানি ১/৪৪, মাসাকাদজা ১/৭৭, মাসাকেসা ৩/৪৪, বেনেট ১/৪৯)।