লালমনিরহাট প্রতিনিধি
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাদক, বাল্যবিয়ে, যৌতুক ও জুয়াকে ‘না’ বলে একটি সুন্দর ও আধুনিক ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবে। লালমনিরহাটে ১৩টি সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, তা অচিরেই পুরো বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়বে।
শনিবার বিকেলে লালমনিরহাটের এম টি হোসেন ইনস্টিটিউট মাঠে সামাজিক সংগঠন ‘আলোড়িত লালমনিরহাট’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। দীর্ঘ দেড় দশকের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের কথা স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে লড়াই ও সংগ্রাম করেছি। অনেক মামলা-মোকদ্দমা ও প্রাণের বিনিময়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা বিজয় ছিনিয়ে এনেছি। বর্তমান পরিবেশ নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য সম্পূর্ণ উপযুক্ত।” তিনি আরো বলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্বের পর এখন আমরা এমন এক নতুন নেতাকে পেয়েছি, যিনি আমাদের নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা দিচ্ছেন।” সমাবেশে এলজিআরডি মন্ত্রী বর্তমান সরকারের বিভিন্ন যুগান্তকারী উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান তুলে ধরে বলেন, সরকারের খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-পুরোহিতদের ভাতা প্রদান এবং নারীর ক্ষমতায়নের মতো কর্মসূচিগুলো দেশের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে এবং এর মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে উঠছে।
লালমনিরহাটবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “আপনাদের ‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাও’ আন্দোলন সফল হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে পরিষ্কারভাবে বলেছেন যে, যেকোনো মূল্যে ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন করা হবে। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে তিস্তা অববাহিকার মানুষ নতুন জীবন ফিরে পাবে।”
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী এবং লালমনিরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুর প্রশংসা করে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি একজন দূরদর্শী নেতা ও প্রকৃত সমাজ সংস্কারক। মাদকের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জনগণকে সাথে নিয়ে তিনি যে অনুকরণীয় প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন, দেশের প্রতিটি প্রান্তে সবাইকে সেভাবেই কাজ করতে হবে।
‘আলোকিত লালমনিরহাট’-এর সভাপতি ও লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে মুখ্য আলোচক ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু। এ ছাড়া বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা: এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা।



