কুড়িগ্রাম ও বগুড়ায় বিপুল পরিমাণ সার জব্দ

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

  • পৃথক অভিযানে প্রায় দুই হাজার ২৭০ বস্তা সার জব্দ
  • দুই লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা

দেশে সার সঙ্কট না থাকলেও কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগে বিভিন্ন স্থানে অবৈধ মজুদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী ও বগুড়ার আদমদীঘিতে পৃথক অভিযানে প্রায় দুই হাজার ২৭০ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে মোট দুই লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা এবং একজনকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। জব্দ করা সারের মধ্যে বিপুল পরিমাণ ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি ও এমওপি রয়েছে।

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ও ভূরুঙ্গামারী সংবাদদাতা জানান, কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে অবৈধভাবে মজুদ করা দুই হাজার ১৫০ কেজি সার উদ্ধার করেছে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় দু’জকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বুধবার রাতে উপজেলার চরভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন, থানার ওসি মো: আজিম উদ্দিন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল হক তারেক। অভিযানকালে মো: বেলাল মিয়া ও মো: মানিক উদ্দিনের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৪২ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ৩১ বস্তায় এক হাজার ৫০০ কেজি ইউরিয়া এবং ১১ বস্তায় ৬৫০ কেজি ডিএপি সার ছিল। উদ্ধার করা সার গোয়ালঘর, খড়ের মাচা ও ধানের গোলায় মজুদ রাখা হয়েছিল। অবৈধভাবে সার মজুদের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বেলাল মিয়া ও মানিক উদ্দিনকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, কৃষকদের স্বার্থে সার মজুদের বিষয়ে কঠোরতা বজায় থাকবে।

আদমদীঘি (বগুড়া) সংবাদদাতা জানান, বগুড়ার আদমদীঘিতে অতিরিক্ত সার মজুদ করে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির দায়ে এক ডিলারকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সাথে তার কাছ থেকে এক হাজার ৬৭৫ বস্তা সার জব্দ এবং দু’টি গুদাম সিলগালা করা হয়েছে। গত বুধবার রাতে উপজেলার নসরতপুর বাজারে মেসার্স সজিব ট্রেডার্সের গুদামে অভিযান চালিয়ে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়। প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী সজিব সাহাকে এ দণ্ড দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুমা বেগম। অভিযানে দু’টি গুদামে অতিরিক্ত পরিমাণ ডিএপি, টিএসপি ও এমওপি সার মজুদের প্রমাণ পাওয়া যায়।

এ অভিযানে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সজল ইসলামসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা বেগম বলেন, দেশে পর্যাপ্ত সার রয়েছে। কাজেই কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত দামে বিক্রির সুযোগ নেই। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।