টার্গেট রিকশা, ভ্যান, অটো

অনুমোদনহীন তবু সরকারদলীয় সংগঠন পরিচয়ে চাঁদাবাজি

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

দলীয় অনুমোদন তো দূরের কথা, কেন্দ্রীয় কোনো অনুমতি পর্যন্ত মেলেনি। অথচ রাজধানীতে বীরদাপটে চলছে ‘জাতীয়তাবাদী রিকশা-ভ্যান-অটোচালক দল’ নামে এক ভুঁইফোড় সংগঠন। ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ভ্যান পুলিশ বা সিটি করপোরেশনের হাত থেকে বাঁচিয়ে দেয়ার লোভ দেখিয়ে অটোরিকশা মালিক ও চালকদের পকেট কাটছে চক্রটি। প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করায় ভয়ে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা।

ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছেন সংগঠনটির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক মো: শহীদুল ইসলাম। অভিযোগ উঠেছে, তার নেতৃত্বেই যাত্রাবাড়ী ও আশপাশের এলাকায় রাস্তার নিরাপত্তা দেয়ার নাম করে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে মোটা অঙ্কের চাঁদা। এই চক্রে তার সাথে রয়েছেন নবগঠিত যাত্রাবাড়ী থানা কমিটির সভাপতি মো: হাসান এবং সদস্য মো: মামুন, মো: আলিম, ফারুক ভূঁইয়া ও মো: হাসমত।

শুধু চাঁদাবাজিতেই থেমে নেই এই চক্র, পদ বাণিজ্যের অভিযোগও রয়েছে বেশ জোরেশোরে। মাতুয়াইল কাউন্সিল বাজার এলাকার আজাদ খান রানা (ওরফে ‘আওয়ামী রানা’) নামে এক সাবেক আওয়ামী লীগ নেতার পিএসকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বানিয়ে দেয়া হয়েছে মহানগর দক্ষিণের সহসভাপতি। এ দিকে মূল অভিযুক্ত শহীদুলের অতীতও ধোয়া তুলসী পাতা নয়; তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই ডাকাতি, অপহরণ ও চেক জালিয়াতির মতো একাধিক গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।

প্রশাসনের অভিযানের ভয়ে দিন কাটানো অটোরিকশা চালকদের এই দুর্বলতাকেই পুঁজি করেছে চক্রটি। যাত্রাবাড়ীর কয়েকজন রিকশা মালিক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, পুলিশ বা সিটি করপোরেশন প্রায়ই অবৈধ রিকশা আটকে অভিযান চালায়। ঠিক তখনই ত্রাতা সেজে হাজির হন শহীদুল ও তার লোকজনেরা। তাদের নাম ভাঙিয়ে রাস্তায় গাড়ি চালানোর বিনিময়ে দাবি করা হয় নির্দিষ্ট অঙ্কের চাঁদা।

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শহীদুল ইসলাম। তার দাবি একটি স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার সম্মানহানি করতে এসব মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে বলে নয়া দিগন্তকে বলেন তিনি। কেন্দ্র থেকে দলের কোনো অনুমতি না পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘এখনো আমাদের নিবন্ধন দেয়া হয়নি, তবে আমরা অনুমোদনের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’