মুহাম্মদ আবুল হাসান ছাগলনাইয়া-পরশুরাম (ফেনী)
ফেনী নদীতে ইজারাবিহীন এলাকা থেকে অবাধে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর চট্টগ্রাম অংশে অসংখ্য ড্রেজার বসিয়ে বালু তোলার কারণে ছাগলনাইয়া উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকায় ভাঙন তীব্র হচ্ছে। ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বসতবাড়ি ও ফসলি জমি। হুমকিতে রয়েছে আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ নদীতীরবর্তী বিভিন্ন স্থাপনা।
গত শনিবার ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সী রফিকুল আলম মজনু ছাগলনাইয়ার শুভপুর ইউনিয়নের সোনাপুরসহ নদীতীরবর্তী ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি নদীর চট্টগ্রাম অংশে বিপুলসংখ্যক ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের দৃশ্য দেখতে পান। পরে সাংবাদিকদের কাছে তিনি অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান।
এমপি মজনুর অভিযোগ, ফেনী নদীর চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই অংশে ইজারা ছাড়াই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, নদীর তীরে দাঁড়িয়ে বিষয়টি চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক, স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে জানানোর প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পরও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। সরকারি সম্পদ থেকে রাজস্ব হারানোর বিষয়টি উল্লেখ করে কার ইশারায় বালু উত্তোলন চলছে, তা সরকারের কাছে জানতে চান তিনি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, নদীভাঙন থেকে বসতবাড়ি ও কৃষিজমি রক্ষায় কয়েক বছর ধরে ফেনী নদীর বিভিন্ন অংশে বালুমহাল ইজারা দেয়া হচ্ছে না। তবে ইজারাবিহীন অবস্থায়ও একটি চক্র বালু উত্তোলন করে আসছে। এ নিয়ে নদীতীরবর্তী ক্ষতিগ্রস্তরা বিভিন্ন সময়ে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন।
স্থানীয়রা আরো জানান, সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে নদীর ফেনী অংশে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। এর আগে অবৈধ বালু উত্তোলন ও বিক্রিকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের দুই পক্ষের মধ্যে হামলা, গুলি ও মারধরের ঘটনাও ঘটে। এসব ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে। ফেনী অংশ থেকে উত্তোলন করা বালু প্রশাসনের পক্ষ থেকে জব্দ করার ঘটনাও ঘটেছে।
তবে মিরসরাই অংশে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের দাবি, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক ড্রেজার নদীতে নামিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। এর ফলে নদীর গতিপথ ও তীরের স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়ে ভাঙন বাড়ছে।
সোনাপুর এলাকার বাসিন্দারা বলেন, বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে আরো বসতবাড়ি ও কৃষিজমি নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নদীতীরবর্তী মানুষের নিরাপত্তা ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে এমপি মজনু অবৈধ বালু উত্তোলনের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সাথে বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে অবহিত করার কথা জানিয়ে ভবিষ্যতে আরো কঠোর কর্মসূচি নেয়ারও ঘোষণা দেন।



