বিশেষ সংবাদদাতা
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, সফলভাবে নির্বাচন আয়োজন করা একটি মহাসাফল্য। বাংলাদেশে এর চেয়ে ভালো নির্বাচন হয়েছে কি না সন্দেহ। এজন্য তিনি হোম মিনিস্ট্রির যতগুলো প্রতিষ্ঠান আছে, ল-এনফোর্সিং এজেন্সি পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ড, আনসারসহ সবাইকে ধন্যবাদ দিয়েছেন। এ ছাড়াও সেনাবাহিনী খুব প্রশংসনীয়ভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেছে বলে প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেছেন।
গতকাল রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস একথা বলেন। বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে বৈঠকের আলোচ্য বিষয় সাংবাদিকদের তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
প্রেস সচিব বলেন, আজকের কেবিনেট সভার মূল বিষয় ছিল ধন্যবাদ প্রস্তাব। এই ধন্যবাদ প্রস্তাবের একটি ছিল একটি ভালো নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য । ধন্যবাদ প্রস্তাবের আরেকটি ছিল সদ্য পদত্যাগ করা কেবিনেট সেক্রেটারি শেখ আবদুর রশিদকে। এটি ছিল আজকের মূল অ্যাজেন্ডা। এর পাশাপাশি আরো কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, আপনাদের জানিয়ে রাখি, পে স্কেল বাস্তবায়ন বিষয়ে যে কমিটি করা হয়েছিল, তার প্রথম বৈঠকটি আজ হয়েছে।
শফিকুল আলম বলেন, উপদেষ্টা পরিষদে নির্বাচনের বিষয়ে একটা সফল, ঐতিহাসিক ও ফেস্টিভ ইলেকশন করার জন্য ধন্যবাদ প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। উপদেষ্টারা তাদের মতো করে ধন্যবাদ দিয়েছেন। বিশেষ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ক্যাবিনেটে বলা হয়, এই ইলেকশনটা অনেক দিক দিয়ে খুবই অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। একটা বড় বিষয়- সবাই যেটা তুলে ধরেছেন, এটা এমন একটা ইলেকশন হয়েছে, যেখানে ফার্স্ট টাইম আমরা ভালো একটা বিরোধী দল দেখতে পাব। যে অপজিশনে থাকছে, গুম-খুনের যারা শিকার হয়েছেন তারা থাকছেন; যারা জুলাই রেভল্যুশনের সাথে সম্মুখ সারিতে ছিলেন তারা থাকছেন এবং পুরো বাংলাদেশের সোসাইটির একটা বড় আকারের রিপ্রেজেন্টেশন হয়েছে।
প্রেস সচিব বলেন, বৈঠকে জানানো হয়, নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও প্রকৃত অর্থে নির্বাচন-সম্পর্কিত সহিংসতায় নিহত হয়েছেন একজন। হাতিয়ার একটি ঘটনার বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
শফিকুল আলম বলেন, এ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বডি-ওর্ন ক্যামেরা, সিসিটিভি এবং ‘সুরক্ষা’ অ্যাপ ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা পুলিশ সদর দফতর থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টা ১৭টি কেন্দ্র সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন এবং ভোটারদের সাথে কথা বলেন। ভবিষ্যতে বডি-ওর্ন ক্যামেরা নির্বাচন ব্যবস্থাপনার অবিচ্ছেদ্য অংশ হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীন ও দৃঢ় ভূমিকার প্রশংসা করা হয়। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কমনওয়েলথ ও আইআরআই নির্বাচনের ভূয়সী প্রশংসা করেছে বলে জানানো হয়। নারী ও তরুণ ভোটারদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতিকেও ইতিবাচক দিক হিসেবে তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া সদ্য পদত্যাগকারী সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশিদের অবদানের জন্য ধন্যবাদ প্রস্তাব গ্রহণ করা হয় এবং তার দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়।
ব্রিফিংয়ে আরো জানানো হয়, আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন বিকেল ৪টায় সংসদের সাউথ প্লাজায় নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা ভাগ্যবান যে এই জাতিকে সেবা করার সুযোগ পেয়েছি।’



