মার্কিন ভিসা বন্ডের তালিকায় বাংলাদেশসহ ৩৮ দেশ

১৫,০০০ ডলার পর্যন্ত দিতে হবে

Printed Edition

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

যুক্তরাষ্ট্রে পর্যটন ও ব্যবসায়ী ভিসার জন্য বাংলাদেশসহ ৩৮টি দেশকে ১৫ হাজার ডলার (প্রায় ১৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা) পর্যন্ত বন্ড বা জামানত দিতে হবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসনবিরোধী নীতির আওতায় নতুন পদক্ষেপ হিসেবে এক কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। দেশগুলোর তালিকায় সর্বশেষ বাংলাদেশকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

গতকাল মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইটে এ সব তথ্য জানানো হয়। গত বছরের আগস্টে প্রথমে ভিসা বন্ডের শর্তযুক্ত দেশের তালিকায় ছয়টি দেশের নাম যুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্র। পরে তারা আরো সাতটি দেশকে এই তালিকায় যুক্ত করে। আর গতকাল বাংলাদেশসহ আরো ২৫টি দেশের নাম যোগ করা হলো।

১২ মাসের এ পরীক্ষামূলক কর্মসূচি শুরু হয়েছে গত ২০ আগস্ট। এটি যুক্তরাষ্ট্রের বি-১ (ব্যবসায়িক) ও বি-২ (পর্যটন) ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। ১২টি দেশের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং মার্কিন ভিসাধারী দর্শনার্থীদের জন্য নতুন কিছু ফি চালু করার পর এ কর্মসূচি নেয় যুক্তরাষ্ট্র। তালিকায় নতুন অন্তর্ভুক্ত হওয়া দেশগুলোর জন্য ভিসা বন্ড কার্যকর হবে আগামী ২১ জানুয়ারি। বর্তমানে বাংলাদেশের নাগরিকদের বি-১ ও বি-২ ভিসা আবেদনের সাথে ১৮৫ ডলার বা প্রায় ২২ হাজার টাকার অফেরৎযোগ্য ফি দিতে হয়।

এ কর্মসূচি এমন দেশগুলোর নাগরিকদের নিশানা করবে, যেসব দেশের ভিসাধারীদের নির্ধারিত মেয়াদ শেষে যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যাওযার (ওভারস্টে) হার ঐতিহাসিকভাবে বেশি। এসব দেশের বেশির ভাগই আফ্রিকার। তবে লাতিন আমেরিকা ও এশিয়ার কয়েকটি দেশও রয়েছে। নতুন নিয়মের ফলে অনেক নাগরিকের জন্যই এখন মার্কিন ভিসা পাওয়া অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে পড়বে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যেসব দেশের নাগরিকদের মার্কিন ভিসার প্রয়োজন হয়, তাদের সবাইকে সশরীর সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে হবে। এ ছাড়া তাদের গত কয়েক বছরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টের ইতিহাস এবং নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের আগের ভ্রমণ ও বসবাসের বিস্তারিত তথ্য জানানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা পাঁচ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানতের বিষয়টিকে সমর্থন করেছেন। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকরা যাতে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত সময় অবস্থান না করেন, সেটি নিশ্চিত করতে এ পদ্ধতি কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তবে এ জামানত জমা দিলেই যে ভিসা পাওয়া নিশ্চিত হবে, তা নয়। যদি ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয় বা ভিসা পাওয়া ব্যক্তি ভিসার সব শর্ত মেনে চলেন, তবে ওই অর্থ ফেরত দেয়া হবে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর বলেছে, বন্ডের এ অর্থের পরিমাণ ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করা হবে। আবেদনকারীকে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ‘আই-৩৫২’ ফরমও জমা দিতে হবে। এ ছাড়া আবেদনকারীদের মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বন্ডের শর্তাবলিতে সম্মত হতে হবে। আবেদনকারী পৃথিবীর যে প্রান্ত থেকেই আবেদন করুন, এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

নতুন যেসব দেশের ওপর এ ভিসা বন্ডের শর্ত কার্যকর হচ্ছে সেগুলো হলো- বাংলাদেশ, আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বার্বুডা, বেনিন, বুরুন্ডি, কেপভার্দে, কিউবা, জিবুতি, ডোমিনিকা, ফিজি, গ্যাবন, আইভরি কোস্ট, কিরগিজিস্তান, নেপাল, নাইজেরিয়া, সেনেগাল, তাজিকিস্তান, টোগো, টোঙ্গা, টুভালু, উগান্ডা, ভানুয়াতু, ভেনেজুয়েলা ও জিম্বাবুয়ে। এসব দেশের ইস্যু করা পাসপোর্ট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণে ইচ্ছুক কেউ যদি বি১/বি২ ভিসার জন্য যোগ্য বিবেচিত হন, তবে তাকে অবশ্যই ৫ হাজার, ১০ হাজার কিংবা ১৫ হাজার ডলারের বন্ড জমা দিতে হবে। নতুন করে যুক্ত হওয়া এ দেশগুলো এখন ভুটান, বতসোয়ানা, মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্র, গাম্বিয়া, গিনি, গিনি-বিসাউ, মালাউই, মৌরিতানিয়া, নামিবিয়া, সাও তোমে অ্যান্ড প্রিন্সিপে, তানজানিয়া, তুর্কমেনিস্তান ও জাম্বিয়ার সাথে একই তালিকায় স্থান পেল।

ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে, ভিসা পাওয়া ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট কিছু পথ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও বের হতে হবে। অন্যথায় তাদের প্রবেশাধিকার প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে অথবা তাদের দেশত্যাগের তথ্য সঠিকভাবে নথিবদ্ধ না হওয়ার ঝুঁকি থাকবে। নির্ধারিত প্রবেশপথগুলোর মধ্যে রয়েছে, বোস্টন লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (বিওএস), জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (জেএফকে) ও ওয়াশিংটন ডুলাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (আইএডি)।