নয়া দিগন্ত ডেস্ক
বগুড়ার শিবগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর করেছে বিএনপি নেতা-কর্মীরা। এ ছাড়া শরীয়তপুরে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ১৫ জন।
বগুড়া অফিস জানায়, বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা শাহাদাতুজ্জামানের নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা কর্মীদের বিরুেেদ্ধ। এ ঘটনায় জামায়াতের তিন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বগুড়া প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মোফাজ্জল হোসেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ইউনিয়নের উত্তর বেলাই গ্রামে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা শাহাদাতুজ্জামানের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নির্বাচনী অফিসে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। বিএনপি সমর্থক একদল সশস্ত্র ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অফিসে হামলা করে ভাঙচুর চালায়। এ সময় কিচক ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াত সভাপতি মো: শাহ জালাল, সমর্থক মো: রশিদুল ইসলাম ও মো: আবু তাহের আহত হন। তাদের মাথা, হাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। শাহ জালালকে গলা চেপে হত্যার চেষ্টাও করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। হামলাকারীরা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বলেও জানান মোফাজ্জল হোসেন। তিনি বলেন, ঘটনার পর আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শিবগঞ্জ থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত অভিযুক্তদের গ্রেফতারে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
শরীয়তপুর প্রতিনিধি জানান, শরীয়তপুরের ভোজেশ^র বাজার এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের দুই পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল ও নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। সংঘর্ষের বিষয়ে এক পক্ষ আরেক পক্ষকে দায়ী করছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বিএনপির এক নারী কর্মী না ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানোকে কেন্দ্র করে জামায়াতের এক কর্মী ফেসবুকের পেইজে স্ট্যাটাস দেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার দুপুরে ভোজেশ্বর বাজার এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে বাগি¦তণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে শরীয়তপুর-২ আসনের জামায়াত প্রার্থী ডা: মাহমুদ হোসেন বকাউলের সমর্থক নড়িয়া উপজেলা (পশ্চিম) জামায়াতের আমির ইঞ্জিনিয়ার কাহেদ নজরুল ইসলামসহ ১১ জামায়াত নেতা-কর্মী ও বিএনপির প্রার্থী শফিকুর রহমান কিরনের সমর্থক ভোজেশ^র ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি মিজান সিকদারসহ ৪ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জেলা জামায়াত অফিসে শরীয়তপুর-২ আসনের জামায়ত প্রার্থী ডা: মাহমুদ হোসেন বকাউল সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে হামলার বিষয়ে বিএনপির উপর দায় চাপিয়েছেন। এদিকে শরীয়তপুর-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী শফিকুর রহমান কিরন জামায়াতকে দায়ী করেছেন।
ঢাকা-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থীর মিছিলে হামলা
ঢাকা জেলা প্রতিনিধি জানান, ঢাকা-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর নির্বাচনী গণসংযোগকালে অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
গতকাল সন্ধ্যায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর স্ট্যান্ড এলাকায় মাগরিবের নামাজের পর গণসংযোগ চলাকালে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে একজনকে মিটফোর্ড স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর দু’জনকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
ঢাকা-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহিনুর ইসলাম বলেন, গণসংযোগ চলাকালে পেছন থেকে বিএনপির একদল নেতাকর্মী অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। এতে ১০ দলীয় জোটের শরিক দল এনসিপির দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার যুগ্ম আহ্বায়ক হৃদয় গুরুতর আহত হন। তাকে রক্ষা করতে গেলে আরো দু’জন হামলার শিকার হন।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, স্থানীয় বিএনপি নেতা সামিউল্লার নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়েছে।
হামলার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে আব্দুল্লাহপুর করেরগাঁও জামায়াতের নির্বাচনী ক্যাম্পে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মো: হানিফসহ স্থানীয় ১০ দলীয় জোটের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনা শোনার সাথে সাথেই আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে ঘটনাস্থলে পুলিশ প্রেরণ করা হয়েছে। বর্তমানে ওই স্থানে শান্তিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করছে।



