ক্রীড়া প্রতিবেদক
মাঠের মানুষ আমিনুল হক। যে জাতীয় স্টেডিয়ামে ফুটবল খেলে তিনি পরিচিতি পেয়েছিলেন, যে মাঠে টাইব্রেকার ঠেকিয়ে বাংলাদেশকে সাফ শিরোপা পাইয়ে দিয়েছেন এখন সেই জাতীয় স্টেডিয়াম নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার মূল ব্যক্তি তিনি। তবে জাতীয় স্টেডিয়ামের আশপাশের পরিবেশ কখনোই ভালো ছিল না। যুগ যুগ ধরেই নেশাখোরদের আস্তানা এই জাতীয় স্টেডিয়ামের এলাকায়। সাথে যোগ হয়েছে ছিনতাই। আর দোকানদারদের উৎপাতে হাঁটার রাস্তাও বন্ধ হয়ে যায়। মোটকথা, একটি জাতীয় স্টেডিয়ামে যে ধরনের পরিবেশ থাকা দরকার এর কোনোটিই নেই জাতীয় স্টেডিয়ামে। স্টেডিয়ামে দোকান বাণিজ্য বাংলাদেশ ছাড়া আর কোথাও পাওয়া যাবে না। এই দোকানের ভাড়া নিয়েও নানা দুর্ণীতি। তাই পুরো পরিবেশ সরেজমিন দেখতেই গতকাল জাতীয় স্টেডিয়াম এলাকা ঘরে দেখেন জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক ও গোলরক্ষক। এরপর পুরো চিত্র দেখে হতাশা ব্যক্ত করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। ক্রীড়া পরিষদের কর্মকর্তাদের সাথে পুলিশের ডিসি মতিঝিলও ছিলেন। এরপর ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আজ থেকেই স্টেডিয়ামের পরিবেশে পরিবর্তন আনার ঘোষণা দেন।
অতীতেও বহুবার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল স্টেডিয়ামের পরিবেশ উন্নত করাসহ দোকান ভাড়ার বিষয়ে সঠিক নিয়ম অনুসরন করা। তবে কয়দিন পরেই সেই উদ্যোগে ভাটা পড়ে। এবার ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক তার উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। জানান, সততা ও আন্তরিকতার সাথে কাজ করলে স্টেডিয়ামে এই পরিবেশ আর থাকবে না। স্টেডিয়ামের পরিবেশ উন্নয়নে মোবাইল কোর্ট কাজ করবে বলেও জানান তিনি। এ জন্য সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন।
নিজেই জানান, আমি স্টেডিয়াম এলাকা ঘুরে দেখার সময় দেখলাম হকি স্টেডিয়াম ও জাতীয় স্টেডিয়ামের গেটের কাছে নোংরা আবর্জনা। কিছু কিছু অংশ একেবারেই জরাজীর্ণ। রাস্তাও চলাচলের অনুপোযোগী। ভাঙা। দোকানদাররা ফুটপাতের রাস্তা পর্যন্ত দখলে নিয়েছেন। হাঁটার রাস্তাও নেই। সেই সাথে এই দোকানগুলো থেকে যে রাজস্ব পাওয়ার কথা সরকার সেটাও পাচ্ছে না। ভাড়া দিচ্ছে ১৭ টাকা, ২০ টাকা, ২২ টাকা হারে। আবার দোকানদারদের যখন জিজ্ঞাসা করলাম আপনারা কত ভাড়া দেন তারা বলছে আমরা ভাড়াটিয়া। মানে তারা এখন ভাড়াটিয়া হয়ে গেছে। যাই হোক ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছি কোন দোকানের সাথে কী চুক্তি তা যাচাই করার জন্য এবং তা নতুন করে পুনঃনির্ধারণের জন্য। রাস্তা সংস্কারের জন্য সিটি করপোরেশনের সাথেও কথা বলব।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর মতে, আমরা এই জাতীয় স্টেডিয়ামকে একটি স্পোর্টস হাবে পরিণত করতে চাই। যাতে এখানে সত্যিকার অর্থেই একটি ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশ থাকে। এই পরিবেশ উন্নত করতে একাধিক পুলিশ বক্সও স্থাপন করার জন্য পুলিশের সাথে কথা বলেছি। আশা করি এক সপ্তাহের মধ্যেই পুরো পরিবেশ পাল্টে যাবে।



