যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘শেষ রক্তবিন্দু’ দিয়ে লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি কিউবার

Printed Edition

আনাদোলু এজেন্সি

যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন বা হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কিউবার নাগরিকেরা শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই করতে প্রস্তুত বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন করে দেয়া হুমকির জবাবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন যে কিউবা তাদের পথেই আসছে। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে দিয়াজ-কানেল ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে একটি গণমাধ্যমচালিত বিষাক্ত কৌশল এবং মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ চালানোর অভিযোগ তোলেন। তিনি আমেরিকার এই ধরনের বাগাড়ম্বরকে কিউবার জনগণের মর্যাদার ওপর এক চরম অবমাননা এবং আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন।

কিউবার নেতা জানান যে তার সরকার আমেরিকার সম্ভাব্য সামরিক হামলার আশঙ্কাকে কোনোভাবেই উড়িয়ে দিচ্ছে না এবং সেই অনুযায়ী নিজেদের প্রস্তুত করছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘যদি কোনো আক্রমণ হয়, তবে কিউবার জনগণ ঐক্য ও দৃঢ়তার সাথে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জবাব দেবে। আমরা যুদ্ধ চাই না, তবে একে ভয়ও পাই না।’

প্রেসিডেন্ট দিয়াজ-কানেল কিউবার স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস স্মরণ করে উনবিংশ শতাব্দীর সামরিক নেতা আন্তোনিও ম্যাসিওয়ের একটি বিখ্যাত উক্তি পুনর্ব্যক্ত করেন। ওই নেতা বলেছিলেন, যারা কিউবা দখল করার চেষ্টা করবে, ‘তারা কেবল রক্তে ভেজা মাটির ধুলোই পাবে’। দিয়াজ-কানেল বলেন যে এটি কেবল কোনো স্লোগান নয়, বরং কোটি কোটি কিউবান নাগরিকের গভীর এক বিশ্বাস।

ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দী করার মার্কিন সামরিক অভিযানে নিহত কিউবান কর্মীদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন যে সেই বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ে ৩২ জন কিউবান নাগরিক নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। কিউবার মাটিতে সেই আত্মত্যাগের সংখ্যা প্রয়োজনে লাখ লাখ বা কোটিতে গিয়ে ঠেকবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

আমেরিকার অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, বিশেষ করে গত জানুয়ারি মাসে ওয়াশিংটনের আরোপ করা নতুন জ্বালানি নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে দিয়াজ-কানেল কথা বলেন। তিনি কিউবার মাটিতে চীন বা রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটি থাকার মার্কিন অভিযোগ সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে বলেন যে কিউবায় কোনো চীনা ঘাঁটি নেই। তিনি দশকের পর দশক ধরে চলা এই মার্কিন অর্থনৈতিক অবরোধকে মানব ইতিহাসের দীর্ঘতম ব্লকেড বা অবরোধ হিসেবে বর্ণনা করেন। এই অবরোধের কারণেই দেশটিতে তীব্র বিদ্যুৎ বিপর্যয়, ওষুধের ঘাটতি ও চরম অর্থনৈতিক সঙ্কট চলছে উল্লেখ করে তিনি মার্কিন জ্বালানি নিষেধাজ্ঞা পদ্ধতিকে একটি অপরাধ এবং জাতিগত নিধনযজ্ঞের সাথে তুলনা করেন।

কিউবায় রাজনৈতিক বন্দী রাখা এবং বিরোধী মতো দমনের বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন দিয়াজ-কানেল। তিনি দাবি করেন যে কিউবায় কোনো রাজনৈতিক বন্দী নেই, বরং যারা কারাগারে আছেন তারা প্রত্যেকেই দেশের দণ্ডবিধি অনুযায়ী সাধারণ অপরাধের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন, সরকারের বিরোধিতা করার জন্য নয়। এত সব চাপ এবং উত্তেজনার পরেও ওয়াশিংটনের সাথে যেকোনো আলোচনায় কিউবা উন্মুক্ত বলে জানান দেশটির প্রেসিডেন্ট। তবে তিনি শর্ত দেন যে এই আলোচনা হতে হবে সম্পূর্ণ পূর্বশর্তহীন এবং কিউবার সার্বভৌমত্ব ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন যে বর্তমান নানাবিধ কষ্ট ও অর্থনৈতিক সঙ্কট সত্ত্বেও কিউবার ভবিষ্যৎ কেবলই সমৃদ্ধি এবং বিজয়ের।