অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ

Printed Edition
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে সেঞ্চুরি করার পর তৃপ্তির নিঃশ্বাস তানজিদ হাসান তামিমের : বিসিবি
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে সেঞ্চুরি করার পর তৃপ্তির নিঃশ্বাস তানজিদ হাসান তামিমের : বিসিবি

ক্রীড়া প্রতিবেদক

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশী ব্যাটারের সেঞ্চুরি এত দিন ছিল শুধুই স্বপ্ন, অপেক্ষা আর আক্ষেপের গল্প। ডারউইনের মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটালেন তানজিদ হাসান তামিম। অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণের সামনে মাথা নত না করে, ধৈর্য আর দৃঢ়তার অনন্য প্রদর্শনে ১৯৭ বলে ১০১ রানের ইনিংস খেললেন তরুণ এই ওপেনার। এটি শুধু তানজিদের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি নয়, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের প্রথম টেস্ট শতক। বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে লেখা হলো নতুন এক অধ্যায়। আগের দিন অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেয়া বাংলাদেশের হাতে বল ছিল, দ্বিতীয় দিনে ব্যাট হাতে ইতিহাস লেখার দায়িত্ব নিলেন তানজিদ। তার ব্যাটেই যেন ডারউইনের আকাশে উড়ল লাল-সবুজের পতাকা। আর সেই পতাকার পাশে জ্বলজ্বল করতে থাকল একটি নাম, তানজিদ হাসান তামিম।

রেকর্ডটা খুব বড় ছিল না, কিন্তু অপেক্ষাটা ছিল দীর্ঘ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস ছিল ৭৬ রান। কেয়ার্নসে হান্নান সরকারের করা সেই ইনিংস এত দিন টিকে ছিল। ডারউইনে এসে সেটি পেরিয়ে গেলেন তানজিদ হাসান তামিম। শুধু রেকর্ডই ভাঙেননি, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ানও তিনি! অবশ্য পিছু পিছু হাঁটছিলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও (৮৪)। ১৬ রানের আক্ষেপে তাকে পুড়িয়েছেন হ্যাজেলউড। তা না হলে ডারউইনে দ্বিতীয় দিনে লেখা হতো দু’জন ব্যাটারের সেঞ্চুরি।

গতকাল ডারইউন টেস্টের দ্বিতীয় দিন সকালে যখন ব্যাট করতে নামেন তানজিদ, তখন পথটা মোটেও সহজ ছিল না। দুইবার জীবন পাওয়ার পরও নিজের ইনিংসকে টেনে নিয়ে যান এই বাঁহাতি ওপেনার। ১০২ বলে তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট ফিফটি। এরপর ধীরে ধীরে এগোতে থাকেন সেঞ্চুরির দিকে। মাইলফলক থেকে যখন আর বেশি দূরে নন, তখনো কোনো তাড়াহুড়া করেননি তানজিদ। নাথান লায়নের বলে সিঙ্গেল নিয়ে ১৮৮ বলে পৌঁছেন তিন অঙ্কে। ৮ চার ও এক ছক্কায় সাজানো সেই সেঞ্চুরিই হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো বাংলাদেশির প্রথম টেস্ট শতক।

অবশ্য সেঞ্চুরির পর ইনিংসটা আর বড় করতে পারেননি তানজিদ। লায়নের বলেই লং অফে মিচেল স্টার্কের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ১৯৭ বল খেলে তার সংগ্রহ দাঁড়ায় ১০১। তানজিদের আগে রেকর্ড ছিল হান্নান সরকারের। কেয়ার্নসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তার ৭৬ রানই ছিল দেশটিতে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস। প্রায় দুই দশক পর সেই রেকর্ড পেরিয়ে গেলেন তানজিদ। মজার ব্যাপার, দু’জনই ওপেনার। একজনের ৭৬ যেখানে ছিল এত দিনের সেরা, আরেকজনের ১০১ সেটিকে নিয়ে গেল তিন অঙ্কের ঘরে।

তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড এখনো শাহরিয়ার নাফিসের। ফতুল্লায় ১৮৯ বলে ১৩৮ রান করেছিলেন তিনি। ফলে তানজিদের ১০১ সেই তালিকায় শীর্ষে ওঠেনি। কিন্তু তার ইনিংসের গুরুত্বও অন্য জায়গায়-এটি এসেছে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে!

বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের টেস্ট সেঞ্চুরির তালিকায় তানজিদ হলেন ১৭তম ব্যাটার। এর আগে দেশের বাইরে বাংলাদেশের ব্যাটাররা ৩৬টি সেঞ্চুরি করেছেন। সেই তালিকায় মুশফিকুর রহীমের ছয়টি শতক সবচেয়ে বেশি। তামিম ইকবাল ও নাজমুল হোসেন শান্ত করেছেন চারটি করে। সাকিব আল হাসান, মোহাম্মদ আশরাফুল ও মাহমুদুল্লাহর রয়েছে তিনটি করে সেঞ্চুরি। মুমিনুল হক, হাবিবুল বাশার সুমন ও লিটন দাসের দু’টি করে সেঞ্চুরি আছে বিদেশের মাটিতে। এছাড়া জাভেদ ওমর, সাদমান ইসলাম, খালেদ মাসুদ, সৌম্য সরকার, মোহাম্মদ রফিক, নাসির হোসেন ও মাহমুদুল হাসান জয়ও দেশের বাইরে তিন অঙ্ক ছুঁয়েছেন। পরিসংখ্যানের হিসাবে তানজিদ এই তালিকার ১৭তম নাম হলেও কীর্তির বিচারে তার অবস্থান আলাদা। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেটিই প্রথম।

ডারউইনে তাই তানজিদের ১০১ রান শুধু স্কোরকার্ডের একটি সংখ্যা নয়। হান্নান সরকারের ৭৬ থেকে শুরু হওয়া অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের গল্প এবার পৌঁছাল তিন অঙ্কে। আর সেই গল্পের পরবর্তী পাতায় এখন লেখা থাকবে তানজিদ হাসান তামিমের নাম!