আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুরে সন্ত্রাসীদের দাপট বেড়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের অবাধ চলাচলের খবরে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। উদ্বিগ্ন বিএনপি ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থীরাও।
সম্প্রতি জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে যৌথ অভিযান জোরদারের দাবি ওঠে। সভায় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি ও বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক মদদে কিছু সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে। রাত নামলেই সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ থানা এলাকা ও মেঘনা উপকূলীয় রামগতির চরাঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা নির্বাচনে অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট দফতরে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে। এতে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সাঁড়াশি অভিযানের তাগিদ দেয়া হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, জেলায় বর্তমানে অন্তত ২০টি সন্ত্রাসী বাহিনী ও উপবাহিনী সক্রিয়, যাদের হাতে রয়েছে বিপুল পরিমাণ দেশী-বিদেশী অস্ত্র। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই ইউপি চেয়ারম্যান জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত সন্ত্রাসীরাও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এতে শিশু, সাংবাদিক ও জনপ্রতিনিধিরাও ঝুঁকিতে রয়েছেন। গত ১ ডিসেম্বর পিস্তল ও অস্ত্র তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার, ৭ ডিসেম্বর বেগমগঞ্জ থেকে ৫টি রাইফেল ও একটি এলজি উদ্ধার, ১২ ডিসেম্বর বিরাহিমপুর এলাকা থেকে ৫টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১৬টি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। জামায়াত প্রার্থী ড. রেজাউল করিম বলেন, নির্বাচনপূর্ব সময়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার জরুরি। বিএনপির প্রার্থী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা চলছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউল হক জানান, অভিযান চলমান রয়েছে। পুলিশ সুপার আবু তারেক বলেন, ৪৯৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা দেয়া হবে।



