ক্রীড়া প্রতিবেদক
বিশ্বকাপের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার কথা ছিল শুধু মেসির ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ নিয়ে। কিন্তু রাত শেষ হতে হতে গল্পটা হয়ে গেল তিন সুপারস্টারের শক্তি, স্কিল, টেকনিক, ট্যাকটিস, পাসিং, গোল প্রদর্শনের এক অনন্য অধ্যায়। গত রাত ছিল তারকাদের রাত। বিশ্বকাপের আকাশে একসাথে জ্বলে উঠেছে তিনটি উজ্জ্বল নক্ষত্র। বয়স, দেশ আর খেলার ধরনে ভিন্ন হলেও একটি জায়গায় তাদের মিল রয়েছে। মঞ্চ যত বড়, আলো তত বেশি তাদের দিকেই ছুটে আসে।
মেসি আবারো দেখিয়েছেন কেন তিনি ফুটবলের অনন্ত বিস্ময়। তার পায়ের ছোঁয়ায় যেন খেলা হয়ে ওঠে শিল্প। এমবাপ্পে ছিলেন গতির ঝড়, প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে তছনছ করে তিনি প্রমাণ করেছেন, এই যুগের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ফরোয়ার্ডদের একজন তিনি। আর হালান্ড? শক্তি, ক্ষুধা আর গোলের অদম্য নেশায় তিনি যেন এক নির্মম গোলযন্ত্র। বিশ্বকাপের রাতগুলো এমনই। কখনো দল জয়ী হয়, কখনো ইতিহাস লেখা হয়। আর গতকাল, ইতিহাস লিখেছেন এই তিন মহাতারকা, নিজেদের স্বকীয়তা আর অসাধারণ নৈপুণ্যে ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে রেখে গেছেন এক অবিস্মরণীয় রাতের গল্প।
মেসি দেখালেন কিংবদন্তিরা সহজে বিদায় নেন না। এমবাপ্পে প্রমাণ করলেন তিনি বর্তমানের সবচেয়ে বড় মঞ্চের সবচেয়ে বড় নায়ক হতে প্রস্তুত। আর হালান্ড জানিয়ে দিলেন, গোলের ক্ষুধা নিয়ে তিনিও আছেন বিশ্বকাপের সিংহাসনের লড়াইয়ে। বিশ্বকাপের ষষ্ঠ দিনে এক রাতের মধ্যে ফুটবলের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎকে একই ফ্রেমে দেখার বিরল সুযোগ পেল ফুটবলপ্রেমীরা।
এক সময় ফুটবল বিশ্ব ভাগ হয়ে গিয়েছিল দুই মেরুতে- মেসি আর রোনালদো। সেই যুগ প্রায় শেষের পথে। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপের ষষ্ঠ দিনে যেন ফুটবল নতুন এক দৃশ্যপট সাজিয়ে দিলেন। মেসি, এমবাপ্পে ও হালান্ড তিনজনই নিজেদের মতো করে জানিয়ে দিলেন, বিশ্বকাপের মঞ্চ এখনো তাদেরই দখলে। তিনজনের আলাদা আলাদা ম্যাচে নিজের দেশকে জেতালেন সবাই।
ফুটবলবিশ্ব যখনই ভাবে লিওনেল মেসির হয়তো আর কিছু প্রমাণ করার নেই, তখনই যেন তিনি নতুন কোনো রেকর্ড স্পর্শের নেশায় মাতেন। ৩৮ বছর বয়সেও লিওনেল মেসি যেন সময়কে বুঝতেই দিচ্ছেন না। নিজের ২০০তম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-০ জয়ে বিশ^কাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন। একইসাথে প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপে খেলার কীর্তিও গড়েছেন।
ইন্টার মিয়ামিতে চোটের কারণে তাকে নিয়ে যে শঙ্কা ছিল, তা এক রাতেই উড়িয়ে দিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তার প্রতিটি স্পর্শে ছিল পুরনো দিনের সেই জাদু, প্রতিটি গোল যেন ইতিহাসের পাতা আরো সমৃদ্ধ করল।
এমবাপ্পে লিখেছেন নিজের নতুন ইতিহাস। সেনেগালের বিপক্ষে ফ্রান্সের ৩-১ জয়ে দু’টি গোল করে তিনি ৫৮ গোল নিয়ে ফরাসি জাতীয় দলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা বনে গেছেন। শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা এখন ১৪। এতে তিনি জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলারের পাশে জায়গাও করে নিয়েছেন। বিশ্বকাপের নতুন রাজা হওয়ার পথে তিনি, গতির প্রশ্নে যেন অপ্রতিরোধ্য।
মেসি-এমবাপ্পের আলোচনার মাধ্যেও নিজের উপস্থিতি জোরালোভাবে জানান দিয়েছেন আরলিং হালান্ড। ইরাককে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপে ২৮ বছর পর ফেরা নরওয়ে দুর্দান্ত সূচনা করেছে। ম্যাচে হালান্ড গোল করে বিশ্বকাপ অভিষেককে স্মরণীয় করে রাখেন। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ১৬ গোল করা এই নরওয়ের এই স্ট্রাইকার আগেই গোল্ডেন বুটের অন্যতম দাবিদার ছিলেন। প্রথম ম্যাচেই গোল করে সেই দাবিকে আরো জোরালো করলেন।



