সংসদে ত্রাণমন্ত্রী

গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির তদন্ত চলছে

Printed Edition

সংসদ প্রতিবেদক

বিগত সরকারের আমলে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচির অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। একই সাথে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও নদীভাঙনের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে এবং দুর্যোগ-পরবর্তী সহায়তা কার্যক্রম সম্প্রসারণের তথ্যও সংসদে তুলে ধরা হয়। অন্য দিকে বাজারে চালের দাম স্থিতিশীল রাখতে নিয়মিত নজরদারি ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে খাদ্যবান্ধব চাল বিতরণের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।

গতকাল মঙ্গলবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ১৩তম দিনে সংসদ সদস্যদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে দুর্যোগব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এবং খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো: আব্দুল বারী এ তথ্যগুলো জানান।

জামালপুর-৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, বিগত সরকারের শাসনামলে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কারের কর্মসূচির নামে টিআর, কাবিটা ও কাবিখা বরাদ্দ নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে যথাযথ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নওগাঁ-৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো: ফজলে হুদার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ঘূর্ণিঝড়, অতি বৃষ্টি, বন্যা ও নদীভাঙনের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস, আগাম সতর্কতা জোরদার, ক্ষতিগ্রস্ত জনগণকে দ্রুত সহায়তা প্রদান এবং নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

তিনি জানান, ক্ষয়ক্ষতি কমাতে বহুমাত্রিক আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা, ডিজিটাল পূর্বাভাস প্রযুক্তি, সাইক্লোন প্রিপেয়ার্ডনেস প্রোগ্রাম (সিপিপি), বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, কমিউনিটিভিত্তিক সতর্কীকরণ কার্যক্রম এবং ঝুঁকিভিত্তিক আগাম পদক্ষেপ সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ইন্টারেক্টিভ ভয়েস রেসপন্স (আইভিআর), মোবাইলভিত্তিক বার্তা এবং স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে আগাম সতর্কতা জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।

দুর্যোগ-পরবর্তী সহায়তার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে জিআর খাদ্য ও নগদ সহায়তা, ঢেউটিন, শীতবস্ত্র, শুকনা খাবার, গৃহ নির্মাণ ও মেরামত সহায়তা, শিশু খাদ্য, গোখাদ্যসহ বিভিন্ন মানবিক সহায়তা দেয়া হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ বরাদ্দও প্রদান করা হয়।

তিনি আরো জানান, উপকূলীয় ও ঘূর্ণিঝড়প্রবণ এলাকায় বহুমুখী আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত ৩২৭টি সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করা হয়েছে। আগামী তিন বছরে আরো ৯০টি বহুমুখী সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

দুর্যোগকালীন নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে গ্রামীণ সড়ক, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণসহ দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি, সিপিপি স্বেচ্ছাসেবক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের প্রশিক্ষণ এবং সক্ষমতা উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে।

একই সদস্যের আরেক প্রশ্নের জবাবে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো: আব্দুল বারী বলেন, বাজারে চালের দাম স্থিতিশীল রাখতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে এবং অবৈধ মজুদদার ও বাজার অস্থিতিশীলকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তিনি জানান, হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল যথাসময়ে বিতরণ নিশ্চিত করতে খাদ্যবান্ধব ডাটাবেজের মাধ্যমে ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় চাল বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে।