ক্রীড়া প্রতিবেদক যুক্তরাষ্ট্র থেকে
জুলিয়ান আলভারেজ। কাতার বিশ্বকাপ মাতানো উঠতি এক তরুণ স্ট্রাইকার। পোল্যান্ডের বিপক্ষে গোল দিয়ে তার শুরু। এরপর সেই বিশ্বকাপে সেমিতে ক্রোয়েশিয়াকে ৩-০ গোল হারিয়েছিল। সেই ম্যাচে জোড়া গোল করেছিলেন আলভারেজ। গত বিশ্বকাপে চার গোল করা এই ফুটবলার এবার গোলই পাচ্ছিলেন না। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে এবারের বিশ্বকাপের সেমিতে তোলার জন্য তার হস্তক্ষেপই লেগেছে।
১০ জন নিয়েও সুইজারল্যান্ড দারুণ লড়াই করছিল বিশ্বকাপ জয়ীদের সাথে। আর্জেন্টিনাকে এতটাই চাপে ফেলেছিল যে, মনে হচ্ছিল এই ম্যাচ জিতে নেবে ইউরোপিয়ান প্রতিপক্ষটি। তবে সুইসদের সেই সুযোগ আর দেননি জুলিয়ান আলভারেজ।
গত বিশ্বকাপে লাউতারো মার্টিনেজের বদলি হিসেবে নামানো হয় জুলিয়ান আলভারেজকে। অব ফর্মের মার্টিনেজ গতবার কোনো গোল পাননি। এবারো সেই অবস্থার দিকে যেতে হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত গোল পেয়েছেন। এর মধ্যে গতকাল এবারের বিশ্বকাপে তার প্রথম গোল ছিল সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে।
এবার লাউতারো দুই গোল করেছেন। এর সর্বশেষটি সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে। ইউরোপের দেশটি এবার বেশ চাপে ফেলে দিয়েছিল আর্জেন্টিনাকে। ১০ জনে পরিণত হওয়ার আগ পর্যন্ত বিপক্ষ আর্জেন্টিনা দলতো সুইসদের ডিফেন্স লাইনকে ফাটল ধরাতে পারছিল না। এমনকি ৯০ মিনিট শেষে যখন সুইস দল আর্জেন্টিনাকে টাইব্রেকার পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা, তখনই জ্বলে উঠেন আলভারেজ। বক্সের বাইরে থেকে তার নেয়া বাঁকানো শটে কিছুই করতে পারেননি সুইস গোলরক্ষক। ১১২ মিনিটে পাওয়া এই গোলের পর আর্জেন্টিনা আরো চাঙ্গা হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে লউতারো মার্টিনেজ তৃতীয় গোল করলে সেমিতে খেলা নিশ্চিত হয় আলবিসেলেস্তেদের।
ম্যাচ শেষে ভাষ্যকারদের বক্তব্য ছিল, পার্থক্য গড়ে দিয়েছে আলভারেজের গোলটি। বক্সের বাইরে থেকে তার মাপা নিখুঁত শটে পরাস্ত করেন গোলরক্ষককে। এই একই ম্যাচে লাউতারো গোল পেয়েছেন। একটি দলের সাফল্যে সবার উপস্থিতি জরুরি। গত ম্যাচগুলোতে আর্জেন্টিনাকে বলতে গেলে একাই টেনেছেন লিওনেল মেসি। প্রতিদিন একজনের পক্ষে ভালো সার্ভিস দেয়াও সম্ভব নয়। সুতরাং মেসির গোলহীন দিনে অন্য ফুটবলারদের গোলের দেখা পেতে হবে। সেই কাজই করেছেন আলভারেজ। এর আগের ম্যাচে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ গোল করেছেন। ছিল একটি অ্যাসিস্টও। এবার কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচেও আর্জেন্টিনার দাপট। ৩-১ গোলে হারিয়েছে সুইজারল্যান্ডকে। মেসির গোল নেই। এর পরও তিন গোলে জয়।



