সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক
বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য বিস্ময়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দ্রোহ, মানবতার প্রেম ও সাম্যবাদের চেতনায় দীপ্ত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী কাল। যথাযোগ্য মর্যাদায় ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে দেশব্যাপী ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। কবির বিদায়ের এই বিশেষ দিবসটি উদযাপনে সরকারি, বেসরকারি ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রধান প্রধান সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের নিজ নিজ কর্মসূচি প্রকাশ করেছে।
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি ও নজরুল ইনস্টিটিউট নজরুল মেলার আয়োজন, বিশেষ সেমিনার ও নজরুল সঙ্গীতানুষ্ঠানের রূপরেখা আয়োজন করেছে। বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশন এই উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা ধারণের কাজ শেষ করেছে, যা বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী সম্প্রচার করা হবে।
সাম্য ও দ্রোহের এই কবি ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট তৎকালীন পিজি হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সেদিন বাংলা ১৩৮৩ সালের ১২ ভাদ্র থাকায় এখন বাংলা সনের হিসেবেই কবি নজরুলের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়ে আসছে। মৃত্যুর পঞ্চাশ বছর পরও তার অসাম্প্রদায়িক চেতনা, শোষণমুক্ত সমাজের বাণী এবং প্রায় চার হাজার গান বাঙালি জাতিকে প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত করে চলেছে। এবারের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকীর মূল লক্ষ্য হবে কবির বৈপ্লবিক চেতনাকে তরুণ প্রজন্মের মাঝে আরো নিবিড়ভাবে ছড়িয়ে দেয়া।
এ দিকে আগামী এক বছর সরকারের পক্ষ থেকে ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা করা হয়েছে। গত ২৩ মে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা শেষে আগামী এক বছরকে নজরুল বর্ষ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি চলতি বছরের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে এক বছর নজরুলবর্ষ ঘোষণা করেন। ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উদ্যাপন উদ্বোধন শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পরে তিনি এই ঘোষণা দেন।
কবি কাজী নজরুল ইসলাম সৃষ্টিশীল ছিলেন মাত্র ২৩ বছর। নজরুলের এই ২৩ বছরের সাহিত্যজীবনের সৃষ্টিকর্ম বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। কবি নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম বাংলা সাহিত্যে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। তার কবিতা ও গান মানুষকে যুগে যুগে শোষণ বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ দেখিয়ে চলেছে। অপর দিকে তিনি ছিলেন চিরপ্রেমের কবি। তিনি নিজেই বলেছেন, ‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবার বাংলাদেশে আনা হয়। তাকে দেয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বসবাসের ব্যবস্থা করে ধানমন্ডিতে কবিকে একটি বাড়ি দেয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৪ সালে কবিকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকে ভূষিত করা হয় কবিকে।



