আকরাম হোসাইন শেরপুর (বগুড়া)
বগুড়ার শেরপুর পৌর শহরের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী বারদুয়ারী হাট এখন অবৈধ দখল আর ভাড়া বাণিজ্যের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও পৌর কর্তৃপক্ষের সাবেক কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে হাটের জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে ৭৩টি স্থায়ী দোকান। প্রশাসনের নীরবতার সুযোগে নতুন করে আরো ছয়টি দোকান ঘর নির্মাণের কাজ চলছে। এর ফলে প্রতি বছর সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হলেও, সেই টাকা চলে যাচ্ছে স্থানীয় একশ্রেণীর প্রভাবশালী ভাড়া ব্যবসায়ীদের পকেটে।
গত সোমবার সরেজমিন হাটের ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, সরকারি খালি জায়গা দখল করে প্রায় ৪৪ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১০ ফুট প্রস্থের জায়গায় ছোট-বড় ছয়টি দোকান নির্মাণের কাজ চলছে। কর্মরত শ্রমিকরা জানান, ফেরদৌস নামের এক ব্যক্তির তদারকিতে এই কাজ চলছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফেরদৌস দাবি করেন, যারা ১০০ বছরের লিজ নিয়েছেন, ঘরগুলো তারাই নির্মাণ করছেন। তবে সরকারি হাটের জায়গা এভাবে লিজ দেয়ার কোনো আইনি ভিত্তি দেখাতে পারেননি তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাটখোলা এলাকার এই ৭৩টি দোকানের মালিকরা যুগের পর যুগ ধরে সরকারি জায়গা ভোগ-দখল করছেন। অনেকে পৌরসভা থেকে নামমাত্র মূল্যে চুক্তিপত্র করে নিয়ে এখন অন্য ব্যবসায়ীদের কাছে চড়ামূল্যে সাব-লেট বা ভাড়া দিয়েছেন। আকারভেদে দোকানগুলোর মাসিক ভাড়া ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। চাল পট্টির ব্যবসায়ী খলিল হাজী জানান, তারা দীর্ঘ দিন ধরে মূল দখলদারদের মোটা অঙ্কের ভাড়া দিয়ে ব্যবসা করছেন, পৌরসভা এখান থেকে কোনো রাজস্ব পায় কি না- তা তাদের জানা নেই।
ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ ২৫-৩০ বছর ধরে ভোগ-দখল করার দাবি করলেও জায়গার কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। পৌরসভার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শেরপুর হাট থেকে প্রতি বছর কোটি টাকার ওপরে রাজস্ব আসার কথা ছিল। কিন্তু প্রভাবশালীদের পকেট ভারী হওয়ায় পৌরসভা তার প্রাপ্য আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, হাটের ভেতরে নতুন করে চলতে থাকা নির্মাণকাজ তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অবিলম্বে এই সরকারি জায়গা সম্পূর্ণরূপে দখলমুক্ত করা হবে। সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার কোনো সুযোগ দেয়া হবে না।



