বাসস
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ২০২১ সালে এক নারীকে লাঞ্ছিত করার ভিডিওকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের ঘটনা বলে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা শনাক্ত করেছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ফ্যাক্ট চেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম বাংলাফ্যাক্ট। বাংলাফ্যাক্ট অনুসন্ধান টিম জানিয়েছে, ‘নারী নির্যাতনের ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়, ভারতের।’ তারা আরো জানায়, এক নারীকে মারধরের একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, এটি অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের শাসনামলে বাংলাদেশের ঘটনা।
বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়। প্রকৃতপক্ষে, এটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনায় ২০২১ সালের ভিডিও।
আলোচিত দাবিটি যাচাইয়ে ভিডিওটির কিছু কি-ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের ওয়েবসাইটে ২০২৪ সালের ৯ জুলাই প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবির সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর দৃশ্যের মিল পাওয়া যায়।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর ২৪ পরগনা জেলার কামারহাটি এলাকায় একটি কাবের ভেতরে তৃণমূল কংগ্রেসের এক নেতার সহযোগীরা ওই নারীকে লাঞ্ছিত করে। পরে ঘটনাটির ভিডিও প্রকাশিত হয়। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ সূত্রে গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, ঘটনাটি ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে আড়িয়াদহ তালতলা স্পোর্টিং কাবে ঘটেছিল এবং সেসময় এ ঘটনায় জড়িত দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়।
এ ছাড়া ভারতের নিউজ১৮, ইটিভি ভারত, ইন্ডিয়া টিভিসহ একাধিক গণমাধ্যমেও একই ঘটনার সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে বলে জানায় বাংলাফ্যাক্ট।
পশ্চিমবঙ্গে নারীকে মারধরের পুরনো ভিডিও অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের শাসনামলে বাংলাদেশের বলে ইন্টারনেটে প্রচার করা হচ্ছে, যা বিভ্রান্তিকর বলে প্রমাণ পেয়েছে বাংলাফ্যাক্ট।
ভিন্ন ঘটনার ভিডিও দিয়ে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার
ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশের মুখোমুখি অবস্থানের ভিডিওকে ছাত্রদলের ওপর পুলিশের হামলা বলে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা বলে শনাক্ত করেছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ফ্যাক্ট চেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম বাংলাফ্যাক্ট।
বাংলাফ্যাক্ট অনুসন্ধান টিম জানিয়েছে, ‘ভিডিওটি ছাত্রদলের ওপর পুলিশের হামলার নয়, বরং ভিন্ন ঘটনার।’
তারা অরো জানায়, ‘বিএনপির পক্ষে মিছিল করার কারণে ছাত্রদলের কর্মীদের ওপর পুলিশ হামলা চালিয়েছে- এমন দাবি করে সম্প্রতি একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়ানো হয়েছে।
১১ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশের পোশাকে তিনজন ব্যক্তি গলায় আইডি কার্ড পরা এক যুবককে দৌড়ে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। ডান পাশে আরো কয়েকজন যুবককে দৌড়াতে দেখা যায়। এমন সময় পাশ থেকে আরেক যুবক ওই যুবককে ছাড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। তখন পুলিশের পোশাকে থাকা একজন কর্মকর্তা তাকে সরিয়ে দেন।
বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, ভিডিওটি বিএনপির পক্ষে মিছিল করার কারণে ছাত্রদলের ওপর পুলিশের হামলার নয়। প্রকৃতপক্ষে, এটি গত ২১ জুন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশের মুখোমুখি অবস্থানের ভিডিও।
বাংলাফ্যাক্ট অনুসন্ধান টিম জানায়, ভিডিওতে থাকা দৈনিক ইত্তেফাকের লোগো দেখে অনুসন্ধান করে তাদের ইউটিউব চ্যানেলে একই ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়।



