শাহীন মণ্ডল মিঠাপুকুর (রংপুর)
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে শতাধিক সুদি মহাজনের পৈশাচিক সুদের জালে জিম্মি হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে বড়বালা ও মিলনপুর ইউনিয়নের কেশবপুর, ছড়ান, বারঘরিয়া, আটপুনিয়া, শাহালামপুর ও তরফবাহাদী গ্রামে দাদন ব্যবসায়ীদের চরম দৌরাত্ম্য চলছে। এসব এলাকায় এমন কোনো দরিদ্র বা সাধারণ পরিবার খুঁজে পাওয়া কঠিন, যারা সুদের চড়া সুদের ফাঁদে আটকে পড়েনি। সুদের টাকা শোধ করতে না পেরে সম্প্রতি একজন আত্মহত্যা করেছেন এবং অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন।
সুদখোর মহাজনেরা মানুষের চরম দৈন্যদশা ও প্রয়োজনের সুযোগ নিয়ে ফাঁকা চেক বন্ধক এবং সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রেখে টাকা দাদন দেয়। তাদের শর্তানুযায়ী, এক হাজার টাকা ঋণে মাসিক ১০০ টাকা সুদ দিতে হয়, যা বার্ষিক এক হাজার ২০০ টাকায় দাঁড়ায়। প্রতি ছয় মাস পর জুন ও ডিসেম্বরে আসল ও সুদের হিসাব ক্লোজিং করা হয়। নির্ধারিত সময়ে কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে সুদের টাকা মূল আসলের সাথে যোগ করে পুনরায় নতুন করে সুদ হিসাব করা হয়। ফলে বাস্তবে এই সুদের বার্ষিক হার দাঁড়ায় প্রায় ১৬০ শতাংশে।
মহাজনদের পেশিশক্তি ও নির্যাতনের ভয়ে ঋণগ্রহীতারা সাধারণত মুখ খুলতে সাহস পান না। এর আগে এ নিয়ে সংঘর্ষ ও থানা-পুলিশ হলেও সুদখোরদের দাপটের কাছে পরাজিত হন ভুক্তভোগীরা। মিলনপুর ইউনিয়নের শাহালামপুর গ্রামের আউয়াল মিয়া দাদনের টাকা শোধ করতে না পেরে দুই বছর আগে আত্মহত্যা করেন। সুদের টাকার জন্য মহাজনের লোকেরা তার বোনকে তুলে নেয়ার হুমকি দিলে তিনি এই পথ বেছে নেন। ময়েনপুর ইউনিয়নের চাকরিজীবী আবু বক্কর দাদনের টাকা শোধ করতে গিয়ে তার সব ব্যাংক চেক বই ও সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য হন। ফলে বেতনের পুরো টাকা সুদে চলে যাওয়ায় অনাহারে-অর্ধাহারে থেকে একপর্যায়ে তিনি মারা যান। সাম্প্রতিক সময়ে এক নতুন সুদখোরের অত্যাচারের বিরুদ্ধে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে বালুয়া মাসিমপুর গ্রামের আছের আলী থানায় জিডি করেছেন। অভিযুক্ত সুদিকারবারিদের দাবি, বিপদের সময় টাকা দিয়ে তারা মানুষের উপকার করছেন। অন্য দিকে ব্যাংকের জটিল প্রক্রিয়া ও এনজিওর সাপ্তাহিক কঠোর কিস্তির কারণেই বাধ্য হয়ে এসব চড়া সুদের মহাজনদের দ্বারে ধরনা দিতে হয় বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।



