নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের মাটি, ভূগর্ভস্থ পানি, এমনকি চালেও লেড (সিসা) ও আর্সেনিকের মতো ভারী ধাতুর (হেভি মেটাল) উপস্থিতি উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। এসব বিষাক্ত উপাদান ঠিক কোথা থেকে আসছে- মাটি, ভূগর্ভস্থ পানি, সার নাকি কীটনাশক থেকে- তা শনাক্ত করতে সরকার ইতোমধ্যে গবেষণা শুরু করেছে বলে তিনি জানান।
রোববার রাজধানীর বনানীর হোটেল সারিনায় ফিশটেক বিডি লিমিটেড আয়োজিত ‘অ্যাকুয়াকালচার নলেজ ডে-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, খাদ্যপণ্য ও মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে জরুরি। তবে উৎপাদন বাড়াতে গিয়ে খাবারের গুণগত মান কোনোভাবেই নষ্ট করা যাবে না। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গবেষক, বিজ্ঞানী ও উদ্যোক্তাদের একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমানোর তাগিদ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশে পানির স্তর দিন দিন নিচে নেমে যাচ্ছে। তাই ভূগর্ভস্থ পানি তোলা কমিয়ে নদীর মিঠাপানি সেচকাজে কীভাবে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে এখন থেকেই চিন্তা করতে হবে। কৃষিতে ক্ষতিকর কীটনাশকের ব্যবহার থেকে বেরিয়ে আসতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে জানিয়ে তিনি গবেষকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, অ্যান্টিবায়োটিক ও ভ্যাকসিনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে প্রাকৃতিকভাবে মৎস্য ও কৃষি খাতের সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজতে হবে।
কৃষি খাতের সার্বিক গুরুত্ব তুলে ধরে আমিন উর রশিদ বলেন, দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ কৃষির ওপর ভর করে বেঁচে আছে। এই বিশাল শ্রেণিকে অর্থনৈতিকভাবে শক্ত অবস্থানে নিতে পারলে দেশের অর্থনীতিও দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী হবে। সরকারের লক্ষ্য শুধু চাকরি দেয়া নয়, কৃষিবিদ তরুণদের উদ্যোক্তা বানিয়ে পাশে দাঁড়ানো।
ফিশটেক বিডি লিমিটেডের চেয়ারম্যান খন্দকার ফরহাদ হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মো: দেলোয়ার হোসেন এবং মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো: খালেদ কনক। এ ছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের ডেপুটি হেড অব মিশন জন্না ভ্যান ডের লিন্ডেনও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।



