স্বামী কিংবা পিত্রালয়ে কোথাও ঠাঁই নেই ফাহমিদার

Printed Edition

নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) সংবাদদাতা

মোবাইল মেসেজের সূত্র ধরে ২০১২ সালে পরিচয় হয়েছিল লক্ষ্মীপুরের মেয়ে তৃষ্ণারানী দাস ও কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের কলেজপড়ুয়া তরুণ মিনহাজুল ইসলাম আশিকের। পরিচয় থেকে ভালোবাসা গভীর হলে পরিবারের মায়া ত্যাগ করে ঘর ছাড়েন তৃষ্ণা। আদালতে এফিডেভিটের মাধ্যমে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে গ্রহণ করেন ইসলাম ধর্ম, নাম হয় ফাহমিদা ইসলাম। ২০১৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন তারা। সংসার আলো করে জন্ম নেয় এক মেয়ে আনিছা (১১) ও ছেলে আনাছ (৫)। ভালোই চলছিল জীবন। কিন্তু ২০১৮ সালের পর থেকে সংসারে শুরু হয় কলহ।

পরকীয়ার সন্দেহ ও পারিবারিক মনোমালিন্য থেকে সম্পর্কে চিড় ধরে তাদের। ফাহমিদার অভিযোগ, ঢাকায় থাকাকালে স্বামী পরকীয়ায় লিপ্ত হন এবং তার ওপর নিয়মিত শারীরিক নির্যাতন চালাতেন। এমনকি বিয়েও করেছেন। অন্য দিকে আশিকের দাবি, ফাহমিদাও পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন এবং বাবা-মায়ের সাথে অবাধ্য আচরণ করতেন। সন্দেহ ও বিবাদের জেরে গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর ফাহমিদাকে তালাকের নোটিশ পাঠান বেসরকারি এক সংস্থায় কর্মরত আশিক।

তালাক কার্যকর হলে ফাহমিদার সামনে নেমে আসবে চরম অনিশ্চয়তা। ধর্ম পরিবর্তনের কারণে পিত্রালয়ের দরজা তার জন্য চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে। ধর্মীয় কঠোরতায় মুসলিম মেয়ে হিসেবে হিন্দু পরিবার তাকে গ্রহণ করবে না। অন্য দিকে, স্বাক্ষর না করলেও তালাকের নোটিশ পাঠনোর পর থেকেই স্বামীর সংসারে তার ঠাঁই-হারা হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে সম্প্রতি দুই পক্ষের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠকে ফাহমিদাকে পাঁচ লাখ টাকা দেয়া এবং বাড়ির একটি কক্ষ লিখে দেয়ার প্রস্তাব উঠেছিল। কিন্তু তা কার্যকর হয়নি। আশিকের বড় চাচা মনিরুল ইসলাম জানান, স্থানীয় সালিশে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। আশিকের সাফ কথা, আমি দেনমোহরের চেয়ে বেশি টাকা দিয়ে তালাক কার্যকর করেছি। তিনি না গেলে আইনগতভাবেই তাকে বাড়ি থেকে বের করা হবে। বর্তমানে নিঃসঙ্গ ও অসহায় জীবন কাটাচ্ছেন ফাহমিদা। সব হারিয়েও তিনি কেবল সন্তান ও স্বামীকে নিয়ে আগের মতো সংসার করতে চান। কিন্তু সমাজ ও আইনের বেড়াজালে সেই আকুতি আটকে গেছে।