ইসিকে আবার এনসিপির চিঠি

শাপলা ছাড়া অন্য প্রতীক সম্ভব নয়

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

দলীয় প্রতীক হিসেবে শাপলা ফুল চেয়ে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) আবারও চিঠি দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ইসির দেয়া চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে পার্টির আহ্বায়ক মো: নাহিদ ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিটি ইসি সচিব বরাবর দেয়া হয়েছে। তিনি বলেছেন, শাপলা ব্যতীত ইসির বেঁধে দেয়া তালিকা থেকে অন্য কোনো প্রতীক পছন্দ করা এনসিপির জন্য সম্ভব নয়। সার্বিক বিবেচনায় এনসিপি আশা করে, ইসি ২০০৮ সালের নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার বিধি ৯(১) সংশোধনক্রমে এনসিপির অনুকূলে শাপলা, সাদা শাপলা এবং লাল শাপলা থেকে যেকোনো একটি প্রতীক বরাদ্দ করবে।

এনসিপি তাদের সাত পৃষ্ঠার চিঠিতে বলেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮ এর বিধি ৯(১) এ নতুন করে নির্বাচনী প্রতীক তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করে একটি কমিটি গঠন করে। সংশ্লিষ্ট কমিটি মোট ১৫০টি প্রতীক অন্তর্ভুক্ত করার জন্য চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তুত করে। উক্ত কমিটির একজন সদস্যের সাথে এনসিপির একটি প্রতিনিধিদল গত ৪ জুন নির্বাচন কমিশনে বৈঠক করেন। বৈঠকে কমিশনের উক্ত কর্মকর্তা চূড়ান্ত তালিকায় ‘শাপলা’ প্রতীক রয়েছে বলে এনসিপিকে আশ্বস্ত করেন। এ ছাড়া এ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশিত হয়।

বিগত ২২ জুন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি রাজনৈতিক দল হিসাবে নিবন্ধনের জন্য আবেদন দাখিল করে। দলের অনুকূলে ‘শাপলা’ প্রতীক সংরক্ষণের জন্য আবেদন জানায়।

চিঠিতে এনসিপি বলেছে, পরবর্তীতে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি বিগত ৩ আগস্ট কমিশনের কাছে চিঠি প্রেরণের মাধ্যমে পার্টির অনুকূলে প্রতীক সংরক্ষণের ক্রম হিসাবে ১. শাপলা ২. সাদা শাপলা এবং ৩. লাল শাপলা পছন্দ করে। এ ছাড়া উক্ত চিঠিতে শাপলাকে প্রতীক হিসেবে দৃশ্যমান করার ক্ষেত্রে শাপলার ভিন্ন ভিন্ন ভার্সন বা আংশিক ডিসটর্টেট ভার্সন গ্রহণ করার ক্ষেত্রে এনসিপি সব সময় আলোচনায় প্রস্তুত রয়েছে বলে জানানো হয়। নির্বাচন কমিশনের সাথে এনসিপির পরবর্তী বৈঠকসমূহে প্রতীক হিসাবে শাপলাকে দৃশ্যমান করার ক্ষেত্রে জাতীয় প্রতীকে দৃশ্যমান শাপলার পরিবর্তে ভিন্ন ভিন্ন কয়েকটি ভার্সনে আঁকা শাপলার নমুনা ছবি নির্বাচন কমিশনের কাছে উপস্থাপন করা হয়। যার কয়েকটি নমুনাও গতকালের চিঠিতে দেয়া হয়।

পরবর্তীতে বিগত ২৪ সেপ্টেম্বর এনসিপি নির্বাচন কমিশনের কাছে সংশ্লিষ্ট বিধিমালা সংশোধনক্রমে শাপলা প্রতীক তালিকাভুক্ত করে দলের অনুকূলে বরাদ্দ দেয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে দরখাস্ত প্রেরণ করে। এনসিপি প্রেরিত ৩ আগস্ট এবং ২৪ সেপ্টেম্বরের দরখাস্তের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন অদ্যাবধি কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি।

নাহিদ ইসলাম চিঠিতে বলছেন, এনসিপি মনে করে গণমানুষের সাথে শাপলা প্রতীক কেন্দ্রিক তার গভীর সংযোগ সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে। শাপলা এনসিপির শুভাকাক্সক্ষী, সমর্থক, কর্মী, নেতৃবৃন্দকে দেশের জনগণের সাথে চমৎকার বন্ধনে আবদ্ধ করেছে। দেশের মানুষের ভালোবাসাকে উপেক্ষা করার শক্তি এনসিপির নেই। ফলে শাপলা ব্যতীত নির্বাচন কমিশনের প্রেরিত ৩০ সেপ্টেম্বর তারিখের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বেঁধে দেয়া তালিকা থেকে অন্য কোনো প্রতীক পছন্দ করা এনসিপির জন্য সম্ভব নয়।

নাহিদ ইসলাম আরো বলেন, দেশের মানুষ মনে করে শাপলাকে প্রতীক হিসাবে অন্তর্ভুক্ত না করা এবং এনসিপিকে শাপলা বরাদ্দ না দেয়ার ক্ষেত্রে ইসির সিদ্ধান্ত কোনো আইনি ভিত্তি ধারা গঠিত নয়। বরং এনসিপির প্রতি বিরূপ মনোভাব ও স্বেচ্ছাচারী দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ।

চিঠিতে এনসিপি নেতা বলেছেন, নির্বাচন কমিশন এনসিপি-কে তার প্রার্থিত শাপলা প্রতীক বরাদ্দ না দিয়ে বিষয়টি নিয়ে অনাকাক্সিক্ষত, আইনবহির্ভূত, বৈষম্যমূলক এবং স্বেচ্ছাচারী আচরণ করছে। এর মাধ্যমে অসৎ উদ্দেশ্যে নির্বাচন কমিশন এনসিপির নির্বাচনী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়া থেকে বঞ্চিত করছে। নির্বাচন কমিশনের এরূপ বৈরী আচরণ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতে এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে কমিশনের সদিচ্ছা ও সক্ষমতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।