এম জে এইচ জামিল সিলেট ব্যুরো
সিলেট বিভাগজুড়ে দেখা দেয়া তীব্র গ্যাস সঙ্কটে সাধারণ জনজীবন, পরিবহন খাত এবং শিল্প উৎপাদনে চরম স্থবিরতা নেমে এসেছে। সিলেট নগর ও আশপাশের সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি সংগ্রহের জন্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চাহিদামাফিক গ্যাস না পেয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন চালকেরা।
এ সুযোগে সিএনজিচালিত যানবাহনের ভাড়া বাড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ তুলেছেন সাধারণ যাত্রীরা। অন্যদিকে, গ্যাসের মারাত্মক সঙ্কটে হবিগঞ্জের ছোট-বড় অন্তত ১৭১টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক-কর্মচারী কর্মহীন হয়ে পড়ার পাশাপাশি বৈদেশিক রফতানি অর্ডার সময়মতো পাঠানো নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
জানা যায়, গতকাল শুক্রবার সকালে গ্যাস সঙ্কটের প্রতিবাদে সিলেট-তামাবিল সড়ক এবং দুপুরে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন সিএনজিচালিত যানবাহনের শ্রমিকেরা। নগরের শিবগঞ্জের সুরমা অটো কেয়ার ফিলিং স্টেশনের সামনে এবং টুকেরবাজারের জাঙ্গাইল এলাকায় সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ দেখান তারা। এতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। শ্রমিকদের অভিযোগ, পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাস না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে।
নগরের সোবহানীঘাট, উপশহর, আখালিয়া, মদিনা মার্কেটসহ জাঙ্গাইল-ভূপাল এলাকার সিএনজি পাম্পগুলোতে ছিল চালকদের দীর্ঘ অপেক্ষা। গ্যাসের চাপ অত্যন্ত কম থাকায় পাম্পগুলো স্বাভাবিক সরবরাহ দিতে পারছে না। দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার অসিলায় চালকেরা যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন। এ নিয়ে নিয়মিত চালক ও যাত্রীদের মধ্যে বাগি¦তণ্ডার সৃষ্টি হচ্ছে।
এদিকে জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সিএনজি ফিলিং স্টেশন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানায়, ১৩ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী পাঁচ দিন সকাল ৮টা পর্যন্ত পাম্প বন্ধ থাকবে। এ সিদ্ধান্তে পাম্প মালিকদের একাংশ দ্বিমত পোষণ করেছেন। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটরস, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিলেট বিভাগীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার রিয়াসাদ আজিম হক বলেন, এটি কেবল সিলেটের নয়, জাতীয় সমস্যা। হঠাৎ সিএনজি পাম্প বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে জনভোগান্তি বাড়বে।
পরিবহন খাতের পাশাপাশি সঙ্কটের সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে। চাহিদার তুলনায় অল্প সরবরাহের পর গত ১২ আগস্ট থেকে জেলাটির অধিকাংশ শিল্পপ্রতিষ্ঠানে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ছোট-বড় ১৭১টি কারখানার উৎপাদন থেমে গেছে এবং ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট বন্ধ থাকায় ব্যাহত হচ্ছে নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন।
হবিগঞ্জের যমুনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের ছয়টি কারখানার মধ্যে চারটিই শতভাগ রফতানিমুখী। দৈনিক ১৩.৬ মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে কিছু দিন তিন মিলিয়ন ঘনফুট দেয়া হলেও গত বুধবার মধ্যরাত থেকে সরবরাহ শূন্যে নামে। ফলে সেখানে কর্মরত ১২ হাজার মানুষের কাজ বন্ধ। এ ছাড়া স্টার সিরামিকস ও এসএম স্পিনিং মিলের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ। এসএম স্পিনিংয়ে দৈনিক ক্ষতি হচ্ছে প্রায় এক লাখ ২১ হাজার ৬০০ ডলার (প্রায় দেড় কোটি টাকা)। হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের ৩৫ হাজার এবং স্কয়ার ডেনিমের তিন হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। সময়মতো পণ্য পাঠাতে না পারলে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের সুনাম ক্ষুন্ন হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জালালাবাদ গ্যাস টি অ্যান্ড ডি সিস্টেম লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো: রুহুল করিম চৌধুরী জানান, এটি একটি জাতীয় সমস্যা। বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহ বাড়ানোর কারণে শিল্পকারখানায় সরবরাহ কমাতে হয়েছে। তবে আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে।


