রংপুরে একই পরিবারের ৪ খুন

ময়নাতদন্তে কেমিক্যালের ব্যবহার ও ধর্ষণের আলামত মেলেনি

রংপুরের পুলিশ কমিশনারকে সরিয়ে দেয়া হলো

Printed Edition

রংপুর ব্যুরো

রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলসহ তার পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত হয়েছে। এতে কোনো ধরনের ধর্ষণের আলামত কিংবা কেমিক্যাল দিয়ে শরীর ঝলসে দেয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ময়নাতদন্তকারী কর্মকর্তা ও রংপুর মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা: বাবুল কিশোর কুমার। তিনি জানান, তদন্ত সংস্থা চাইলেই যেকোনো মুহূর্তে প্রতিবেদনটি তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ডা: বাবুল জানান, মাইক্রোবায়োলজি পরীক্ষায় নিহতদের শরীরে এসিড বা কেমিক্যালের কোনো উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া দুই নারীর যৌনাঙ্গে পাওয়া তরল পদার্থের বিষয়ে ওঠা বিভ্রান্তি দূর করে তিনি বলেন, মূলত প্রচণ্ড গরমে লাশ পচে গিয়ে শরীরের চর্বি গলে বেরিয়ে এসেছিল। ল্যাব পরীক্ষায় এতে কোনো বীর্যের উপস্থিতি মেলেনি। ময়নাতদন্ত চলাকালে ডোম এ তথ্য বাইরে ভুলভাবে ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করেছিল। উল্লেখ্য, গত ২১ আগস্ট (শুক্রবার) ভোরে নগরীর মাছখোয়া পাড়ার নিজ বাড়িতে খুন হন গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বোলা, মাস্টার্স সম্পন্ন করা কন্যা আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী এবং পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীপুত্র আয়ুষ চক্রবর্তী প্রিয়ম। ২২ আগস্ট রাতে তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস নামে দু’জনকে গ্রেফতার করেছে, যারা ইতোমধ্যে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে।

নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আন্দোলন ও বিক্ষোভে ফুঁসে ওঠে রংপুরের সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। গতকাল নিহতদের বাড়িতে অনুষ্ঠিত শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সর্বস্তরের মানুষ অপরাধীদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন। এ ছাড়া রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা নিহতদের স্মরণে বিশেষ প্রার্থনা ও আলোচনা সভার আয়োজন করেন।

রংপুরের পুলিশ কমিশনারকে সরিয়ে দেয়া হলো : আলোচিত একই পরিবারের চার সদস্য খুনের ঘটনার মধ্যেই রংপুর মহানগর পুলিশে (আরএমপি) নতুন কমিশনার পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে ডিআইজি মাহবুবুর রশিদকে। তিনি পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে রংপুর মহানগর পুলিশের কমিশনার পদে দায়িত্ব দেয়ার কথা জানানো হয়। তিনি বিদায়ী পুলিশ কমিশনার আব্দুল মাবুদের স্থলাভিষিক্ত হবেন।

গত ১২ আগস্ট রংপুরের তদানীন্তন পুলিশ কমিশনার আব্দুল মাবুদকে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছিল। একই প্রজ্ঞাপনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ-কমিশনার আসলাম উদ্দিনকে পুলিশ সদরদফতরে সংযুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নুরুল আমীনকে খাগড়াছড়ির এপিবিএন ও বিশেষায়িত ট্রেনিং সেন্টারে বদলি করা হয়েছে।