সরকারি অনেক কর্মকর্তা বেতন থেকে ট্যাক্স কাটেন না : এনবিআর চেয়ারম্যান

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি অনেক বড় বড় কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন, যাদের বেতন করযোগ্য কিন্তু তারা ট্যাক্স কাটেন না বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো: আবদুর রহমান খান। এমনকি এনবিআর-আইআরডিতেও বড়সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীও বেতন থেকে ট্যাক্স কর্তন করেন না বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, গতকাল আমি আইবাস সিস্টেম থেকে ডেটা নিয়েছি যে আমাদের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে কতজন বেতন থেকে ট্যাক্স কাটেন। ২০১৪ সালের ফাইন্যান্স অ্যাক্টে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন থেকে ট্যাক্স কর্তন বাধ্যতামূলক। এখন যেহেতু আইবাস সিস্টেমে আমাদের বেতন-ভাতা হয়, ফলে এটা ট্র্যাক করা খুবই সহজ। আমি দেখলাম, প্রতিটি মিনিস্ট্রিতে অনেক বড়সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী, যাদের আয় করযোগ্য অথচ তারা মাসে মাসে বেতন থেকে ট্যাক্স কাটছেন না। আমি মন্ত্রণালয়ের সব সচিবকে ডিও লেটার দিয়েছি। তারা যেন অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফাইন্যান্স অফিসারকে ইনস্ট্রাকশন দেন ট্যাক্স কর্তন করার জন্য।

গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (ট্যাকসেশন) অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ‘ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, ২০২৫’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বেতন থেকে ট্যাক্স কর্তন খুবই সহজ। তারা যখন দেখবেন, বেতন থেকে ট্যাক্স কাটেনি, তারা বিল প্রসেস করবে না। আমার অফিস এনবিআর, আইআরডিতেও একটা বড়সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীও বেতন থেকে ট্যাক্স কর্তন করেন না। এটা উদাহরণ দিলাম যে, দেশে কমপ্লায়েন্স লেবেল কত নিম্নস্তরে। এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, সম্প্রতি আমরা সব কর অঞ্চলে একটি নির্দেশনা জারি করেছি যে কিভাবে প্রতিটি জোনে গোয়েন্দা কার্যক্রম বৃদ্ধি করা যায়।

রিটার্ন সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা যখন হিসাব চাই, তখন বলি এত লোক ট্যাক্সপেয়ার নাই। নানা কারণে এদের পাওয়া যাচ্ছে না। তাহলে আমরা তাদের ডি-রেজিস্ট্রেশন কেন করছি না। ডি-রেজিস্ট্রেশন করা আমাদের জন্য ফরজ হয়ে গেছে। আমরা যখন বলি, আমার টিআইএনধারীর সংখ্যা এক কোটি ২০ লাখ, আর আমার রিটার্ন আসে ৪৫ লাখ, এটা অগ্রহণযোগ্য। হয়ত টিআইএনধারীদেরকে ডি-রেজিস্ট্রেশন করতে হবে, যাদের পাওয়া যাচ্ছে না। না হয় তাদের নোটিশ করে বলতে হবে আপনি কেন রিটার্ন দিচ্ছেন না।

অনুষ্ঠানে এনবিআর সদস্য (কর প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) জিএম আবুল কালাম কায়কোবাদ বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। সভাপতিত্ব করেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও এনবিআর সদস্য (করনীতি) ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী। সূচনা বক্তব্য দেন সংগঠনের মহাসচিব ও কর পরিদর্শন পরিদফতরের মহাপরিচালক সৈয়দ মহিদুল হাসান।