ক্রীড়া প্রতিবেদক
ঘরোয়া ফুটবল মাঠে গড়ানোর আগেই শুরু হয়েছে নানা টালবাহান। বিভিন্ন ইস্যুকে সামনে এনে নির্ধারিত সময়ে যেন বাফুফে খেলা শুরু করতে না পারে সে জন্য জোট পাকিয়েছে কয়েক কাব। কয়েকদিন আগে কোনো ধরনের বিঘœ ছাড়া একটানা লিগ আয়োজন, কাবগুলোকে অংশ গ্রহণ ফি প্রদান, প্রাইজমানি প্রদান ও লিগ কমিটিতে কাবগুলোর প্রতিনিধি রাখা দাবি জানিয়ে ১০ কাব চিঠি দিয়েছে বাফুফেতে। এখন এই চিঠিতে সই স্বাক্ষর করা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। ১৩ কাবের মধ্যে মধ্যে বসুন্ধরা কিংস, ফর্টিস এফসি এবং বাংলাদেশ পুলিশ স্বাক্ষর করেনি। এই স্বাক্ষর করা কাবের একটি ছিল বাংলাদেশ ফুটবল লিগের নবাগত সিটি কাব। তবে এই কাব থেকে অভিযোগ করা হয়েছে ওই চিঠিতে তাদের কাবের সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরই করেনি। তার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। একটি দেশের ফুটবলে যখন পুনর্জাগরণ শুরু হয়েছে, পুরো দেশের জনগণ যখন ফের ফুটবল মুখী হয়েছে তখন একটি দুষ্ট চক্র ফের ফুটবলের অগ্রযাত্রাকে পেছন থেকে টেনে ধরার চেষ্টা করছে। গতকাল বাফুফের পেশাদার লিগ কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন চৌধুরী জানান, ‘আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পেলে এই বিষয় নিয়ে অবশ্যই তদন্ত হবে।’ গতকাল র্যাংকিং টেবিল টেনিসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, ‘খেলোয়াড়দের প থেকে কিংবা একজন স্পোর্টস মিনিস্টার হিসেবে শুধু সাংগঠনিক ব্যবস্থা না, প্রয়োজনে এই ধরনের কাজের সাথে যারা জড়িত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও নেয়া হবে।’
তিন দল ফিফা কর্তৃক নিষিদ্ধ থাকায় এবার বাফুফের ঘরোযা ফুটবল মৌসুম শুরুর পরিকল্পনায় ছেদ পড়ে। আগস্টে খেলা মাঠে গড়াতে পারেনি। বাতিল করা হয় চ্যালেঞ্জ কাপও। তবে ৩ সেপ্টেম্বর ফিফা নির্ধারিত ফুটবলার রেজিস্ট্রেশনের সময়ের মধ্যেই বসুন্ধরা কিংস, ঢাকা আবাহনী ও ইয়ংম্যান্স কাব ফকিরেরপুল ফিফার নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পায়। বাফুফেও ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ ফুটবল লিগ ও ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ফেডারেশন কাপ শুরুর কথা জানিয়ে চিঠি দেয় কাব গুলোকে। অথচ সময়মতো অনুশীলনই শুরু না করা কাবগুলো জোট পাকিয়েছে। নানা ইস্যু সামনে এনে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা করছে। এরই মধ্যে স্বাক্ষর জালের মতো ঘটনা আরো বিব্রত করেছে পুরো ফুটবল অঙ্গনকে। সই জালের ঘটনা এটিই নতুন নয়। এর আগে মরহুম সাবেক ফুটবলার এবং বাফুফের সহসভাপতি বাদল রায়েরও সই জাল হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। তখন বাদল রায় ফেডারেশনের দায়িত্বে ছিলেন না।
বাফুফে এখনো ১৮ সেপ্টেম্বর লিগ শুরুর পক্ষে। জাকির হোসেন চৌধুরী বলেন, আমাদের সময়সূচি তো দেয়াই আছে। বাকি রয়েছে ফিকশ্চার তৈরি। এর পরও কাব গুলো যদি খেলতে না চায় তাহলে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য পেশাদার লিগ কমিটি আছে। বাফুফের নির্বাহী কমিটি আছে। তিনি মনে করিয়ে দেন , বাফুফে এবং কাব তো একে অপরের পরিপূরক।
তবে অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, এখন বাফুফে যদি এই কাবগুলোর দাবিতে লিগ এ মাসে শুরু না করে পরে শুরু করে এবং তখন যদি লিগ সমাপ্ত করতে ঝামেলা হয় তখন এই কাবগুলোই বলবে, আমাদের দাবি কেন বাফুফে মেনেছিল। আমরা তো অনেক দাবিই করতে পারি।
এবার ৭ ভেনুতেই লিগের ম্যাচ হওয়ার কথা। তবে এখনো প্রস্তুত হয়নি চাঁদপুর স্টেডিয়াম। গাজীপুর স্টেডিয়ামেও কাজ চলছে। জাকির হোসেন জানান, ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই স্টেডিয়ামের মাঠগুলো খেলা উপযোগী হয়ে যাবে। চাঁদপুর স্টেডিয়ামের মাঠের ক্রিকেট পিচ তুলে সেখানে ফেলা নতুন মাটিতে ঘাসও জন্মিয়েছে।
জাতীয় স্টেডিয়ামে ঘরোয়া ফুটবল চালুর জোর দাবি কাবগুলোর। জাকির হোসেন জানান, সাফ ফুটবলের পর ফেডারেশন কাপ ও লিগের গুরুত্বপূর্ণ খেলা হতে পারে জাতীয় স্টেডিয়ামে।



