সাংবাদিকদের নতুন চেয়ারম্যান

দুদকের ভাবমর্যাদা ফেরাতে কাজ করব

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

দুর্নীতি দমন কমিশনের ভাবমর্যাদা ফিরিয়ে আনতে এবং দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নতুন চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান। গতকাল দুদকের প্রধান কার্যালয়ে নতুন কমিশনের প্রথম কার্যদিবসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

এ সময় নতুন দুই কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম খান ও সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।

এক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন, আমরা যেন মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশের জন্য কাজ করতে পারি। দুদকের ভাবমর্যাদা ফিরিয়ে আনতে পারি এবং দেশ দুর্নীতিমুক্ত করতে যথেষ্ট চেষ্টা চালাতে পারি। ইনশাআল্লাহ আগামী দিনে ভালো ফল আনব।

স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে দুদক কোনো চাপে থাকবে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা কোনো চাপে নেই। আমরা স্বাধীনভাবে কাজ করছি। আমাদের সামনে কোনো সমস্যা এলে তা সমাধান করার চেষ্টা করব। মানুষের প্রত্যাশাকে সামনে রেখেই আমরা এখানে এসেছি।

অপর এক প্রশ্নে দুদক কমিশনার সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, বাংলাদেশের একজন অত্যন্ত অভিজ্ঞ বিচারক এই কমিশনের চেয়ারম্যান হয়েছেন। আমরা তার নেতৃত্বে প্রতিটি বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ ও নিরপেক্ষভাবে সিদ্ধান্ত দেবো। আশা করি, আপনারা অতি অল্প সময়ে এসব বিষয়ে অগ্রগতি জানতে পারবেন।

দুদক চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান এবং দুই কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম খান ও সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া গতকাল প্রথম দিনের মতো অফিস করেন। সকাল ৯টার দিকে তারা দুদকে আসেন এবং সকাল ১০টায় নির্ধারিত মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। যেখানে দুদক সচিব সাইদুর রহমান ও মহাপরিচালকসহ উপপরিচালক পর্যায় পর্যন্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সোমবার সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে দুদকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। একই প্রজ্ঞাপনে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া।

বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি ছিলেন। চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারিতে আপিল বিভাগ থেকে অবসর নেন। এর আগে দীর্ঘকাল হাইকোর্ট বিভাগে বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

এ ছাড়া কমিশনার ড. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর কমিশনার ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) চেয়ারম্যান ছিলেন।

অপর কমিশনার ড. জাহাঙ্গীর আলম খান একজন অবসরপ্রাপ্ত সচিব। তিনি ৮৫ ব্যাচের কর্মকর্তা ছিলেন।

চলতি বছরের ৩ মার্চ দুদকের চেয়ারম্যানসহ তিন কমিশনার পদত্যাগ করেন। কমিশন গঠন নিয়ে নানা জটিলতায় কাটে প্রায় পাঁচ মাস। এরই মধ্যে গত ২২ জুন নতুন কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেয় সরকার। নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে সদস্যসচিব করে একটি সার্চ কমিটি গঠন করা হয়। সার্চ কমিটি ছয় দফা বৈঠক করে সম্ভাব্য প্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত যাচাই-বাছাই ও যোগ্যতা পর্যালোচনা করে। পরে চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার হিসেবে এ কে এম আসাদুজ্জামান, ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়ার নাম চূড়ান্ত করে।