ময়মনসিংহ শিশু হাসপাতালের নির্মাণকাজ ২০ মাস ধরে বন্ধ

ভোগান্তিতে রোগীরা

সাইফুল মাহমুদ, ময়মনসিংহ অফিস
Printed Edition
ময়মনসিংহে শিশু হাসপাতালের নির্মাণাধীন ভবন  :  নয়া দিগন্ত
ময়মনসিংহে শিশু হাসপাতালের নির্মাণাধীন ভবন : নয়া দিগন্ত

বিশ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে ময়মনসিংহের বহুল প্রতীক্ষিত ২০০ শয্যা বিশিষ্ট শিশু হাসপাতালের নির্মাণ কাজ। অথচ ১৬ মাস আগেই হাসপাতালটি চালু হওয়ার কথা ছিল। বরাদ্দকৃত অর্থ শেষ হয়ে যাওয়ায় এবং নতুন করে প্রকল্প অনুমোদনে দেরি হওয়ায় কাজ বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে। এতে হতাশা প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।

ময়মনসিংহ নগরীর মধ্যবাড়েরা বাইপাস এলাকায় তিন একর জমিতে ২০১৮ সালে সরকার বিশেষ বরাদ্দে হাসপাতালটির অনুমোদন দেয়। ২০২৩ সালের ২৭ আগস্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এম এস এন্টারপ্রাইজকে কার্যাদেশ দেয়া হয় এবং ১২ সেপ্টেম্বর কাজ বুঝিয়ে দেয়া হয়। প্রাথমিকভাবে দশতলা ভিতের ওপর দোতলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও গত বছরের ৩০ জুনের পর থেকে টাকা না পাওয়ায় কাজ বন্ধ রয়েছে।

সরেজমিন গত রোববার দেখা যায়, নির্মাণাধীন হাসপাতালের বেইজমেন্ট ও একতলার পিলার নির্মাণ শেষ হলেও এখানে-সেখানে নির্মাণ সামগ্রী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। পিলারের রডগুলোতে মরিচা ধরেছে। প্রায় ১০ কোটি টাকার কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং তা পরিশোধ করা হয়েছে। নতুন প্রকল্প প্রস্তাবনায় ব্যয় ধরা হয়েছে ৩১ কোটি টাকা। এতে মোট ব্যয় দাঁড়াবে ৪০ কোটি টাকা।

ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো: ইফতেখার আলম জানান, ইতোমধ্যে ৪০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এক মাস আগে নতুন প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে এবং মূল্যায়নের কাজ চলছে। ঠিকাদার বাছাই শেষে শিগগিরই কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো: খাইরুল ইসলাম সোহেল জানান, মাটি ভরাট, বর্ষার পানি অপসারণ, জমি অধিগ্রহণ ও নকশা পেতে দেরি হওয়ায় কাজ শুরুর সময় পিছিয়ে যায়। নতুন টেন্ডারে মাটি ভরাট, সীমানা প্রাচীর, সাবস্টেশনসহ পূর্ণাঙ্গ দোতলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রাচীন জেলা ও বিভাগীয় নগরী হওয়া সত্ত্বেও ময়মনসিংহে পৃথক কোনো শিশু হাসপাতাল নেই। বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৬০ শয্যার শিশু বিভাগে প্রতিদিন সাত থেকে আট গুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকে। গত সোমবার ৪৪৮ জন রোগী ভর্তি ছিল, যা চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য চরম চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক অধ্যাপক ডা: মো: জাকিউল ইসলাম বলেন, ৬০ শয্যার বিপরীতে ৪৪৮ জন রোগী ভর্তি। কম জনবল নিয়ে আট গুণ বেশি রোগীর চাপ সামলানো অত্যন্ত কঠিন। শিশু হাসপাতালটির দ্রুত নির্মাণ কাজ শেষ করে চালু করা জরুরি।

ময়মনসিংহ নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব শামসুদ্দোহা মাসুম বলেন, হাসপাতালটির নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় আমরা হতাশ। দ্রুত কাজ শেষ করে হাসপাতাল চালু করা এখন সময়ের দাবি। বিশেষায়িত এই হাসপাতাল চালু হলে ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইলসহ উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলা, সুনামগঞ্জ ও গাজীপুরের শিশু রোগীরা উপকৃত হবে।

উল্লেখ্য, বৃহত্তর ময়মনসিংহের ছয় জেলাসহ দেশের উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলা থেকে প্রতি দিন হাজারো রোগী ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। শিশু হাসপাতালটি চালু হলে এই বিশাল এলাকার শিশুদের বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।