গরম কি অস্ত্র হবে ফর্টিসের

কিরগিজ ক্লাব মুরাসের সাথে ম্যাচ আজ

Printed Edition
অনুশীলনে ফর্টিস এফসির ফুটবলাররা	 : বাফুফে
অনুশীলনে ফর্টিস এফসির ফুটবলাররা : বাফুফে

ক্রীড়া প্রতিবেদক

‘মুরাস এফসির সবাই কি চলে গেছে। কেউ কি আছে আশপাশে।’ ম্যাচের আগের দিন মূল অনুশীলন শুরু করার আগে গতকাল এভাবেই সতর্ক অবস্থান ফর্টিস এফসির ম্যানেজার রাশেদুল ইসলামের। শেষ টেকনিক্যাল অনুশীলন প্রতিপক্ষ জেনে গেছে বড় বিপদ। অবশ্য বেলা ৩টার প্রচণ্ড গরমে অস্থির কিরগিজস্তানের ক্লাবের সব সদস্যই নির্দিষ্ট সময় শেষে চলে গেছে হোটেলে। যে মাঠে অনুশীলন করেছিল মুরাস সেই মাঠেই দেড় ঘণ্টা পর প্র্যাকটিসে নামে বাংলাদেশ ফুটবল লিগের তৃতীয় স্থান পাওয়া দলটি। বসুন্ধরা কিংস ও ঢাকা আবাহনী এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের লাইসেন্স করতে না পারার ফলে ফর্টিসের সুযোগ হয় এবারের এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে খেলার। ক্লাব ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আজ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামছে ফর্টিস। বেলা ৩টায় বসুন্ধরা কিংস এরিনায় হবে এই ম্যাচ। ৩টার গরম বেশ সমস্যায় ফেলতে পারে মধ্য এশিয়ার শীত এলাকার দলটিকে। এতে কি সুবিধা নিতে পারবে বাংলাদেশী ক্লাবটি। অতীত রেকর্ড অবশ্য বাংলাদেশের ফুটবলের পক্ষে কথা বলেনি। এখন ফর্টিস কি পারবে গরমের সুবিধা নিয়ে মুসারকে হারাতে। খেলাটি সরাসরি দেখাবে টি স্পোর্টস।

মধ্য এশিয়ান ক্লাবটি গত বছরও বাংলাদেশে এসেছিল। ঢাকায় এসে ঢাকা আবাহনীকে ২-০তে হারিয়ে পরের রাউন্ডে চলে যায়। এরপর আসরের গ্রুপ পর্বে উঠে সেখানে সেরা হয়ে স্থান করে নেয় নকআউটে। এরপর থামতে হয় সেমিতে। এবারো তারা জিততে এসেছে বাংলাদেশে। কোচ আন্দ্রে কানসেলস্কি জানান, আমাদের দল খুবই ভালো অবস্থায় আছে। উঁচু মানের ফুটবলারদের উপস্থিতি। আমরা জয়ের জন্যই মাঠে নামব।’ এরপর যোগ করেন, ‘বাংলাদেশের গরম আবহাওয়া আমাদের জন্য সমস্যাই হবে। এটা ভিন্ন দেশ, ভিন্ন পরিবেশ। এর পরও ৩ পয়েন্টই থাকবে আমাদের লক্ষ্য। যদিও প্রতিপক্ষ ফর্টিস সম্পর্কে তেমন কিছুই জানি না।’ গরম যে দলটির খেলোয়াড়দের বিপদে ফেলবে তা গতকাল অনুশীলনের সময়ই বুঝা গেছে। বারবারই পানি পান করার জন্য ছুটছিলেন সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ থাকা দেশটির খেলোয়াড়রা।

অবশ্য অতীতে এই গরমকে জয় করেই কিরগিজ ক্লাব এবং জাতীয় দল বাংলাদেশের ক্লাব ও জাতীয় দলের বিপক্ষে সাফল্য পেয়েছিল। ২০১১ সালে কম্বোডিয়ায় অনুষ্ঠিত এএফসি প্রেসিডেন্টস কাপের ম্যাচের ম্যাচে কিরগজি ক্লাব নেফটসি কসকোর আতা ২২ ঘণ্টা ভ্রমণ করে এসে দুপুরের প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও ঢাকা আবাহনীকে ২-০ গোলে পরাজিত করেছিল। ঢাকার মাঠে তারা কখনই হারেনি। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ জাতীয় দলও বিশ্বকাপ বাছাই ফুটবলে ঢাকায় জিততে পারেনি তাজিকিস্তানের বিপক্ষে।

বাংলাদেশী ক্লাবটি অবশ্য জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। যদিও কোচ মাসুদ পারভেজ কায়সার সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই বললেন, ‘আমরা প্রথমে জানতাম না এই আসরে যে খেলতে যাবো। বসুন্ধরা কিংস ও ঢাকা আবাহনী খেলতে না পারায় আমাদের সুযোগ এসেছে। এখন আমাদের জন্য বড় দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ আমরা দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি। আর এই প্রথম আমি আন্তর্জাতিক ম্যাচের ডাগ আউটে দাঁড়াতে যাচ্ছি।’ জাতীয় দলের সাবেক এই সহকারী কোচ জানান, অতীতে আবাহনী ও বসুন্ধরা কিংস এএফসির আসরে অনেক ম্যাচ খেলেছে। তাদের সাফল্যও আছে। আর আমরা যেহেতু সুযোগ পেয়েছি, তাই আমরাও এই সুযোগটা কাজে লাগাতে চাই। এখন আমরা প্রস্তুত।’ তার মতে, ‘যদি ৯০ মিনিটের খেলায় সুযোগ কাজে লাগাতে পারি এবং সর্বোচ্চ চেষ্টা করে ফুটবলাররা তাহলে জিততে পারব। দেশের মাঠে খেলার অ্যাডভানটেজটা কাজে লাগাতে পারব। এই ম্যাচে জিতে পরের ধাপে এগিয়ে যেতে পারব।’

দলের অধিনায়ক পা ওমর বাউবারও এক সূর। ইনশাআল্লাহ আমরা জয়ের জন্যই খেলব। কায়সার জানান, আমাদের মতোই বয়স মুরাসের। ফর্টিসের একটি দর্শন তারা কোনো জাতীয় দলের ফুটবলার নেবে না। তবে জাতীয় দলকে ফুটবলার সরবরাহ করবে- সেটাই করে যাচ্ছি। মুরাসের বিপক্ষেই প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচে অভিষেক হতে যাচ্ছে রাসেলের। তাকে আমি তাকে বাছাই করে এনেছি। এই কাজই করে যাচ্ছে ফর্টিস।

কায়সার যোগ করেন, মুরাস বেশ শক্তিশালী। তারা গত এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের সেমিফাইনালিস্ট। তবে তাদেরকে হারানো যাবে না এমন নয়। আমরা বাংলাদেশের ফুটবলে সব বড় ক্লাবকেই হারিয়েছি। এবার আন্তর্জাতিক ম্যাচে পরাজয়ের স্বাদ দিতে চাই মুরাস এফসিকেও। জানান, শীত প্রধান দেশের ক্লাবকে হারানোর জন্য গরমের মধ্যে খেলাটা একটা কৌশল।

এই ম্যাচের জন্য আট বিদেশীকে দলে নিয়েছে ফর্টিস। এ ছাড়া ঢাকা আবাহনী থেকে নেয়া হয়েছে ইব্রাহিম ও শাকিলকে। তবে ফর্টিস দীর্ঘ দিন (দুই মাস) ম্যাচের মধ্যে নেই। অন্য দিকে মুরাস চার দিন আগেও প্রতিযোগিতা মূলক ম্যাচ খেলে এসেছে। অবশ্য ফর্টিস এই ম্যাচের আগে বাংলাদেশ পুলিশের বিপক্ষে দু’টি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে। এটাকে বেশ গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করলেন ফর্টিস কোচ। জানান, ‘আমরা ওদের নিয়ে বিচার বিশ্লেষণ করেছি। ওরাও আমাদের নিয়ে গবেষণা করেছে।’ যোগ করেন, ‘আমাদের দলে আট বিদেশী আছে- এটা একটা বড় শক্তি।’ তবে মুরাসের সেট পিচকে ভয়ঙ্কর বলে উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা যদি সেট পিচে গোল না খাই তাহলে ম্যাচের ফল আমাদের পক্ষেই আসবে।’