ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি সম্ভাবনার পর্যটন খাত

সালতামামি

Printed Edition

আবুল কালাম

চলতি বছরের আর মাত্র কয়েক দিন আছে। এর পরই আসবে নতুন বছর। কিন্তু বিদায়ী বছরের হিসাব কষে পর্যটন খাত উন্নয়নে কোনো সফলতা মেলেনি। এ খাতের উন্নয়নে সরকারের পর্যটন করপোরেশন, ট্যুরিজম বোর্ড ছাড়াও বেসরকারিভাবে অনেক ট্যুর অপারেটরসহ ট্যুরিস্ট পুলিশ রয়েছে। কিন্তু অবকাঠামো, মানসম্মত রাস্তা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পর্যটন শিল্পের সমন্বয়হীনতা, দক্ষ জনবলের অভাব, বাজেট, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, সেবায় ভোগান্তি, অতিরিক্ত হোটেল ভাড়া ও ভ্রমণ ব্যয়, যানজট, বিনোদন ও ভিসা ব্যবস্থাসহ একাধিক সমস্যায় এ খাতের উন্নয়নে বড় বাধা হয়ে কাজ করছে। এসব কারণে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আর কর্মকর্তাদের অবহেলায় সম্ভাবনার এ খাত ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। পারবে কি না তাও অনিশ্চিত।

সংশ্লিষ্টদের মতে কয়েক যুগ পার হয়ে গেলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় এ খাতের উন্নয়ন সম্ভব হয়নি। ১৯৭৩ সাল থেকে পর্যটন খাত উন্নয়নে ট্যুরিজম বোর্ডসহ বিভিন্ন সংস্থার যাত্রা শুরু হয়। এর পর প্রায় চার যুগেও কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেনি বাংলাদেশ। লাভজনক এ শিল্পের উন্নয়নে সরকারের একাধিক প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করলেও অগ্রগতির কোনো সুফল আসেনি।

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব) জানিয়েছে, দেশে পর্যটন খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ জড়িত। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী পর্যটকের সংখ্যা প্রায় ১১০ কোটি। এর মধ্যে পর্যটকের প্রায় ৭৫ শতাংশ ভ্রমণ করেন এশিয়ার দেশগুলোয়। কিন্তু অপরিকল্পিত কার্যক্রমের কারণে তার পুরো সফলতা আসছে না বাংলাদেশে।

টোয়াবের সাবেক সভাপতি শিবলুল আজম কোরাইশীর ভাষ্য, পর্যটন খাতে বছরে হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হয়। এর ৩০ শতাংশ হয় দুই ঈদে। এর মধ্যে রোজার ঈদে ২০ শতাংশ ও কোরবানির ঈদে ১০ শতাংশ। কিন্তু গত এক যুগে ধাপে ধাপে নানা অস্থিরতায় এ খাতে বছরে কমপক্ষে ১০ হাজার কোটি টাকার লোকসান হয়েছে।

তবে ট্যুরিজম বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানান, এ খাতের উন্নয়নে এই মহাপরিকল্পনার কার্যক্রম চলমান থাকবে। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বিশেষ প্রচারণার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড। ‘বিউটিফুল বাংলাদেশ’ ক্যাম্পেইনে মহান মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন স্মৃতিস্তম্ভ এবং সেগুলোর ইতিহাস নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্লগ আকারে কাজ চলছে।

তার ভাষ্য, তিনটি পর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে প্রথমে এ খাতের বর্তমান অবস্থা, কোথায় কোন সমস্যা, সম্ভাবনা, সঙ্কট চিহ্নিত করা হবে। এর পর পর্যটনের ভিশন, মিশন, স্ট্র্যাটেজিক অবজেক্টিভস, প্রায়োরিটিস ও লিংকেজগুলো পর্যলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘ মেয়াদি স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান তৈরি করা হবে। আর সব শেষে জোন বা এরিয়া নির্দিষ্ট করে অঞ্চলভিত্তিক পরিকল্পনা নেয়া হবে।

পর্যটকদের বাংলাদেশের প্রতি আকৃষ্ট করতে এর খাতের উন্নয়নে করোনার আগেই ২০২১ সাল ঘিরে মহাপরিকল্পনা নেয়া হয়। পরিকল্পনার মধ্যে ছিল, দিনব্যাপী ইনানীতে ৫০টি দেশের নৌবাহিনীর সাথে অনুষ্ঠান। মেলা, ফেস্টিভাল, কার্নিভাল, কালচারাল অনুষ্ঠান, ব্র্যান্ডিং, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারণা, ভিডিও নির্মাণ, ডিজিটাল স্ক্রিনে প্রদর্শনী ও ওশান ট্যুরিজমকে বেসরকারি উদ্যোগে চালু। কিন্তু কর্তৃপক্ষ আজো তার উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। অপার সম্ভাবনার এ দেশে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার, সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন; আছে পাহাড়, পর্বত ও হাওর। তার পরও পর্যটক স্বল্পতা দেশের অর্থনৈতিক খাতে শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে।