সরকারি খাল খননের মাটি দিয়ে পুকুর ভরাট

নবীগঞ্জে আ.লীগ নেতাকে ঘিরে ক্ষোভ

Printed Edition

নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) সংবাদদাতা

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার শেরখাই ও নরখাই নদীর খাল খনন প্রকল্পের মাটি ব্যবহার নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি প্রকল্পের খননকৃত মাটি দিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান কাজল তার বাড়ির একটি বড় পুকুর ভরাট করেছেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত দাবি করেছেন সচেতন মহল।

জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাঁক ইউনিয়নের কামারগঁাঁও এলাকায় জাইকা প্রকল্পের আওতায় শেরখাই ও নরখাই নদীর খাল খননের কাজ শুরু হয়। প্রায় ছয় কোটি ১২ লাখ টাকার এ প্রকল্পে খননকৃত মাটি প্রকল্প এলাকার উন্নয়ন কাজে ব্যবহারের কথা থাকলেও অভিযোগ রয়েছে সেই মাটি প্রকল্প এলাকায় না রেখে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে মুজিবুর রহমান কাজল প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার বর্গফুট মাটি নিয়ে গিয়ে তার বাড়ির একটি বড় পুকুর ভরাট করেন। প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের ওপর প্রভাব খাটিয়ে তিনি মাটি সরিয়ে নেন বলেও অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। একই সাথে প্রকল্পের মাটি বিক্রি ও কমিশন নেয়ার অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয় যুবক জাবেদ আলী বলেন, কাজল নিজেকে এলাকায় প্রভাবশালী দাবি করতেন। তিনি বলতেন তাকে ছাড়া এখানে কোনো কাজ করা যাবে না। তাই প্রকল্পে নানা অনিয়ম হয়েছে বলে আমরা মনে করি।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত মুজিবুর রহমান কাজলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এ দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মন্তব্যে তিনি সাংবাদিকদের সমালোচনা করে বলেন, তাকে ‘ডেভিল’ বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্য দিকে নবীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মীর সাব্বির আহমদ বলেন, সরকারি প্রকল্পের খননকৃত মাটি অন্যত্র নেয়ার কোনো বিধান নেই। তিনি বলেন, বিষয়টি আমরা বিভিন্ন পত্রিকায় দেখেছি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সরেজমিন তদন্ত করা হবে। যদি অনিয়ম পাওয়া যায়, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। উল্লেখ্য, নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাঁক ইউনিয়নের কামারগঁাঁও এলাকায় শেরখাই ও নরখাই নদীর খাল খননের এ প্রকল্পটি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শুরু হয়। অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে কিছু সময় কাজ বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি আবারো প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।