মাধবদীতে আমেনা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে সৎ বাবা

Printed Edition

মাধবদী (নরসিংদী) সংবাদদাতা

সারা দেশে নাড়িয়ে দেয়া আলোচিত ঘটনা নরসিংদীর কিশোরী আমেনা (১৫) ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। গতকাল দুপুরে নরসিংদীর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল ফারুক। কিশোরী আমেনাকে পরিকল্পিতভাবে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করেন তারই সৎ বাবা আশরাফ আলী। আরো গত ১০ ফেব্রুয়ারি মামলার প্রধান আসামি আমেনার প্রেমিক নূর মোহাম্মদ নূরা ও তার সহযোগী হযরত আলী, এবাদুল, জামান ও গাফফার হজরত আলীর বাড়িতে নিয়ে আমেনা কে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেন। চারজন আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়ে অপরাধ স্বীকার করেছেন। একই সাথে হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা আশরাফ আলী গতকাল সন্ধ্যায় নরসিংদীর চিফ জুডিশিয়াল আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছেন আর তিনি একাই তার মেয়েকে হত্যা করেছেন বলে জানিয়েছেন। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টার দিকে হতথ্যাকাণ্ডের মূল হোতা আমেনার সৎ বাবা আশরাফ আলী তিনি দাবি করেছিলেন এই হত্যাকাণ্ডের সাথে নুরা জড়িত তার সামনে থেকে ২৫ তারিখ রাত ৮টার দিকে তার মেয়েকে ছিনিয়ে নিয়ে যান। পুলিশের তৎপরতায় এমন নাটক সাজিয়েও পার পাননি আশরাফ আলী। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার ১০ দিন পর পুলিশ নিশ্চিত হন হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত আমেনা সৎ বাবা। সকাল ১০টায় বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। একই দিন শুক্রবার সন্ধ্যায় আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেন।

আদালতে জবানবন্দীতে আশরাফ আলী বলেন, আমেনার চরিত্র খারাপ ছিল সামাজিকভাবে সে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছিল তাই পূর্বপরিকল্পিতভাবে ২৫ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টা থেকে নির্জন সরিষা বাগানে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করেন। হত্যার পর এক ঘণ্টা তার মুঠোফোনটি বন্ধ রাখেন। পরবর্তীতে রাত ১০টার দিকে তার স্ত্রী ফাহিমাকে বলেন, আমেনাকে নুরাসহ কয়েকজন অপহরণ করে নিয়ে গেছে।