আনাদোলু
লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসন বৃদ্ধির আশঙ্কার মধ্যেই দেশটির সরকারকে তেল আবিবের হুমকি প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানিয়েছে হিজবুল্লাহ। বুধবার সংগঠনটি লেবানন সরকারকে ইসরাইলের নিরস্ত্রীকরণের দাবি না মানার জন্য এই আহ্বান জানায়।
হিজবুল্লাহর পার্লামেন্টারি ব্লক এক বিবৃতিতে জানায়, জাতীয় অগ্রাধিকার হলো সেই ভূখণ্ডে ইসরাইলি দখলদারিত্বের অবসান ঘটানো, যেখান থেকে ২৭ নভেম্বরের যুদ্ধবিরতি চুক্তি সত্ত্বেও ইসরাইলি শত্রু বাহিনী সরে যায়নি। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘লেবানন কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই দৃঢ়ভাবে কাজ করতে হবে। আমাদের সেনাবাহিনী ও জনগণকে অপমান করার পাশাপাশি সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করতে শত্রু যেসব শর্ত চাপিয়ে দিচ্ছে, তার ফাঁদে পা দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।’
হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে আরো বলা হয়, ‘দখলদারিত্ব অব্যাহত থাকলে তা প্রতিরোধ করার অধিকার লেবানিজ জনগণের রয়েছে এবং এটি একটি বৈধ অধিকার, যার জন্য আর কোনো বাড়তি অনুমোদনের প্রয়োজন নেই।’তেল আবিব লেবাননে তাদের হামলা বন্ধ করার জন্য চলতি বছরের শেষ নাগাদ হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণের শর্ত জুড়ে দিয়েছে। লেবানন সরকার যেন এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে, তার ওপর জোর দিচ্ছে ইসরাইল। এই সময়সীমা শেষ হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এমন প্রেক্ষাপটেই হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এই বিবৃতি দেয়া হলো।
যুদ্ধবিরতি চুক্তির অধীনে ইসরাইল যেন কোনো বিলম্ব বা শর্ত ছাড়াই তাদের বাধ্যবাধকতা মেনে চলে, সেজন্য দেশটির ওপর চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে হিজবুল্লাহ। গাজা যুদ্ধের আবহে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা আন্তঃসীমান্ত হামলার পর ২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরাইল ও লেবানন যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায়। এই সংঘাতে চার হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং ১৭ হাজার জন আহত হয়েছেন।
যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরাইলি বাহিনীর সরে যাওয়ার কথা ছিল। তবে তারা মাত্র আংশিকভাবে সরে গেছে এবং পাঁচটি সীমান্ত চৌকিতে এখনো সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে।



