নয়া দিগন্ত ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, বৃরোপণ কর্মসূচিকে দেশব্যাপী একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে। নারী, তরুণ প্রজন্ম, শিার্থী এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীসহ সমাজের সব শ্রেণীর মানুষকে এতে সম্পৃক্ত করতে হবে। স্থানীয় মাটি, জলবায়ু ও জীববৈচিত্র্য বিবেচনা করে সঠিক স্থানে উপযুক্ত দেশীয় প্রজাতির গাছ রোপণের পাশাপাশি চারার বেঁচে থাকার হার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ‘০৫ বছরে ২৫ কোটি বৃরোপণ’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের ল্েয গঠিত সেলের ৪র্থ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকে এ সভার আয়োজন করা হয়।
নজরুল ইসলাম খান আরো জানান, ২০২৬ সালে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার মাধ্যমে মোট পাঁচ কোটি ১৪ লাখ ৮৮ হাজার ৯৩০টি চারা রোপণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্বভাবে উৎপাদিত চারা এবং নিজস্ব অর্থায়নে সংগৃহীত চারা রয়েছে। নির্ধারিত ল্যমাত্রার প্রায় ৪৩ শতাংশ চারা ইতোমধ্যে রোপণ করা হয়েছে। যেসব মন্ত্রণালয় ও সংস্থা ল্যমাত্রা অর্জনে পিছিয়ে রয়েছে, তাদের চলতি বর্ষা মৌসুমকে কাজে লাগিয়ে বৃরোপণ কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার নির্দেশনা দেন তিনি।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, এমপি বলেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ‘০৫ বছরে ২৫ কোটি বৃরোপণ’ কর্মসূচি সফল করতে শুধু চারা রোপণ নয়, রোপণ-পরবর্তী নিয়মিত পরিচর্যা, সুরা এবং কার্যকর মনিটরিং নিশ্চিত করতে হবে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, এমপি বলেন, আগামী ডিসেম্বর- জানুয়ারি মাসে উপকূলীয় এলাকায় দুই কোটি বৃরোপণ করা হবে। ফলে আগামী জানুয়ারি মাসের মধ্যে এ বছরের ল্যমাত্রা অর্জন হবে বলে আশা করেন তিনি।
সভায় প্রতিটি রোপিত গাছের জিপিএসভিত্তিক অবস্থান, প্রজাতি, রোপণের তারিখ, জিও-ট্যাগযুক্ত ছবি ও পরিচর্যার তথ্য ডিজিটালভাবে সংরণের জন্য ‘ট্রি মনিটরিং অ্যাপ’ তৈরির অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। অ্যাপটির মাধ্যমে গাছের বেঁচে থাকার হার, প্রতিস্থাপনমূলক বৃরোপণ, জেলা ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক অগ্রগতি এবং রিয়েল-টাইম প্রতিবেদন জাতীয় ড্যাশবোর্ডে প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে।
সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) শামিমা বেগম, বৃরোপণ সেলের টেকনিক্যাল এক্সপার্ট অধ্যাপক ড. মো: নুরুল ইসলাম ও সংশ্লিষ্ট দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



