মো: মিজানুর রহমান চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ)
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়া জাতীয় উদ্যানসংলগ্ন ত্রিপুরা পল্লী মারাত্মক ভাঙনের মুখে পড়েছে। টিলা ধস ও ছড়ার ভাঙনে ইতোমধ্যে কয়েকটি বসতঘর বিলীন হয়েছে। দ্রুত গাইডওয়াল নির্মাণ না হলে চলতি বর্ষায় পুরো পল্লী হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিন দেখা যায়, দফায় দফায় ভারী বৃষ্টিতে সাতছড়ার পাহাড়ি ছড়াগুলোতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ২৪টি ত্রিপুরা পরিবারের একমাত্র যোগাযোগ সড়ক ভেঙে যাওয়ায় তাদের চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রায় দুই বছর ধরে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী থাকায় বাসিন্দারা ছড়া পেরিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন। বর্ষাকালে পানি বেড়ে গেলে তারা কার্যত ঘরবন্দী হয়ে পড়েন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বর্ষায় ভাঙনে বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও স্থায়ী প্রতিরোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এ বছর পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
পল্লীর বাসিন্দা আশিষ দেববর্মা বলেন, গত বছর তিনটি ঘর বিলীন হয়েছিল। এবার পুরো পল্লী হুমকির মুখে রয়েছে। রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
ত্রিপুরা পল্লীর হেডম্যান চিত্ত দেববর্মা জানান, দীর্ঘ দিন ধরে সড়ক সংস্কার ও ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। চলতি মৌসুমে ভাঙনের তীব্রতায় ইতোমধ্যে পাঁচটি পরিবার ঘরছাড়া হয়েছে। বসতভিটা রক্ষায় তিনি দ্রুত সরকারি সহায়তা কামনা করেন।
সাতছড়া জাতীয় উদ্যানের রেঞ্জ কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, জরুরি ভিত্তিতে একটি গাইডওয়াল নির্মাণ করা গেলে টিলা ধসের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে। এবারের ভূমিধসে এলাকায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও তিনি জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গালিব চৌধুরী বলেন, বিষয়টি সমাধানে বড় ধরনের অর্থের প্রয়োজন। ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা লিখিত আবেদন দিলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।



