নিজস্ব প্রতিবেদক
ডেমরা থানার ‘ডগাইর দারুচ্ছুন্নাত ফাজিল (বিএ) মাদরাসা’র প্রাক্তন শিক্ষক মো: হোসাইন মিয়া দীর্ঘ ২০ বছরের চাকরিজীবনের ঘটনায় অবিচারের শিকার হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, তার বরখাস্ত ও রিট পিটিশন (৯৭৬৫/২০১০ ইং) জবাব প্রদানে মাদরাসা অধ্যক্ষ আবুল হাশেম আইনগতভাবে অনিয়ম করেছেন এবং সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন গায়েব করেছেন।
মো: হোসাইন মিয়া জানান, ১৯৯১ সালে মাদরাসায় যোগদানের পর থেকে তিনি বেতনভাতা পাচ্ছিলেন। ২০০৫ সালের ৫ মার্চ তাকে অধ্যক্ষ ও সহসভাপতি কর্তৃক জোরপূর্বক ‘সাময়িক বরখাস্ত’ করা হয়, কোনো কারণ দর্শানো নোটিশ ছাড়া। অভিযোগ অনুযায়ী, অধ্যক্ষ তাকে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে বাধ্য করতেন না এবং বৈধ ছুটির আবেদন অগ্রাহ্য করতেন।
হোসাইন মিয়ার বর্ণনা অনুযায়ী, ২০০০, ২০০৪ ও ২০০৭ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসকের তদবিরে তিনটি পৃথক তদন্ত প্রতিবেদন করা হয়েছিল; কিন্তু অধ্যক্ষ সব তথ্য গোপন রেখেছেন। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরসহ অন্যান্য সংস্থার তদারকি সত্ত্বেও তার বেতনভাতা বন্ধ রাখা হয়েছে এবং সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
২০১০ সালে হাইকোর্টে তিনি রিট পিটিশন দাখিল করেন। অভিযোগ, অধ্যক্ষ রিটের জবাবে জালিয়াতির আশ্রয় নেন, যা হাইকোর্টের কার্যপদ্ধতিতে অনিয়মের সৃষ্টি করেছে। ২০১১ সালে দ্বিতীয় রিট পিটিশন দাখিল করা হয়; কিন্তু তিন বছরের বিলম্বের কারণে বিচারিক সুবিধা পাননি। হোসাইন মিয়া জানিয়েছেন, আদালতে শুনানির দিনও দ্বৈত বেঞ্চের প্রধান বিচারকের আচরণে তার মামলা প্রভাবিত হয়।
হোসাইন মিয়া দাবি করেছেন, অধ্যক্ষের অনিয়মের ফলে প্রায় ২০ লাখ টাকা ক্ষতি ও ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষাজীবনের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া মাদরাসার গভর্নিং বডি ও আরবিট্রেশন কমিটির অনুমোদন ছাড়া তাকে ‘চূড়ান্ত বরখাস্ত’ করা হয়েছে। তিনি প্রধান উপদেষ্টা মহোদয়ের কাছে আবেদন করেছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটিতে দাখিল করা লিভ-টু-আপিলগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে তার চাকরি ফিরিয়ে দিতে।
মো: হোসাইন মিয়ার আবেদন ও অভিযোগের সাথে জড়িত প্রমাণপত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে :
# জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা, সুপ্রিম
কোর্ট শাখার নিয়োগ প্রমাণপত্র।
# অধ্যক্ষের জবাব ও সংশ্লিষ্ট তদন্ত প্রতিবেদন।
# সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির আইনগত মতামত।
# বিভিন্ন দফায় দাখিলকৃত আবেদনপত্র ও লিগ্যাল নোটিস।
শিক্ষা খাতে দীর্ঘকালীন চাকরির অবদান থাকা সত্ত্বেও হোসাইন মিয়ার অভিযোগ অনুযায়ী তার সাথে করা অনিয়মের ঘটনাটি শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
হোসাইন মিয়া ও তার আইনজীবীরা আশা করছেন, প্রধান উপদেষ্টা মহোদয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্তে মনোনিবেশ করবেন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন।



