অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
পুঁজিবাজারের বিনিয়োগ নিয়ে বরাবরই হতাশার মধ্যে থাকেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান নিজেদের সক্ষমতাকে ব্যবহার করে বাজার থেকে মুনাফা তুলে নিতে সক্ষম হয়। আবার কিছু বাজার খেলোয়াড় নানা গুজব ও কারসাজির মাধ্যমে এখান থেকে অনৈতিক ফায়দা লুটে। কিন্তু প্রকৃত বিনিয়োগকারীরা বরাবরই বঞ্চিতই থেকে যান। এবার ঈদ পূর্ববর্তী বাজার আচরণ এসব বঞ্চিতদেরও কিছুটা আশাবাদী করে তুলেছে। তাদের মাঝেও ঈদপরবর্তী একটি ইতিবাচক ও গতিশীল পুঁজিবাজারের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে যেখানে বিনিয়োগ নিরাপত্তা পাবে এবং যথারীতি নির্দিষ্ট সময় শেষে সেই বিনিয়োগ তাদের কমবেশি মুনাফা দেবে।
চলতি মে মাসের শুরু থেকে পুঁজিবাজারগুলো টানা দরপতনের শিকার থাকলেও গত ১৯ মে থেকে এ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটে। গত ১৮ মে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচকটি অবস্থান করছিল পাঁচ হাজার ২০৩ দশমিক ১১ পয়েন্টে। আর ২৪ মে ঈদ পূর্ববর্তী সর্বশেষ কর্মদিবসে সূচকটি পৌঁছে যায় পাঁচ হাজার ৩৩৫ দশমিক ৮৬ পয়েন্টে। এ কয়দিনে সূচকটির উন্নতি ঘটে ১৩২ দশমিক ৭৫ পয়েন্ট। এ সময় ডিএসইর দুই বিশেষায়িত সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহরও যথেষ্ট উন্নতি ঘটে। অনুরূপভাবে দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক একই সময় ২৮৬ দশমিক ২৬ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়। উন্নতি ঘটে বাজারটির দুই বিশেষায়িত সূচক সিএসই-৩০ ও সিএসসিএক্স সূচকও।
বিনিয়োগকারীরা ঈদপূর্ব বাজার আচরণ দেখে খুবই উচ্ছ্বসিত। বেশ কয়েকজন বিনিয়োগকারীর সাথে ঈদ-পরবর্তী তাদের প্রত্যাশার কথা জানতে চাইলে নয়া দিগন্তকে তারা বলেন, দীর্ঘদিন পর ধারাবাহিক পতন সামলে পুঁজিবাজার কয়দিন ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফর্ম করেছে। ঈদের পরও এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকতে পারে। তা ছাড়া সরকারও বাজার নিয়ে আন্তরিক বলেই মনে হচ্ছে। আগামী বাজেটে তার প্রতিফলন ঘটলে একটি গতিশীল পুঁজিবাজারের প্রত্যাশা তো করাই যায়।
পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঈদের আগে পুঁজিবাজার যে আচরণে ছিল লম্বা ছুটির পর তার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে বিনিয়োগকারীদের লোকসান সমন্বয় করতে কিছুটা হলেও ভূমিকা রাখবে। ছুটির পর সরকারও বাজার নিয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তা ছাড়া বাজেটে বাজারবান্ধব কিছু বিষয়ও উঠে আসতে পারে। পরিবর্তন আসতে পারে নিয়ন্ত্রক সংস্থায়ও। সব মিলিয়ে বিনিয়োগকারীসহ সব স্টেক হোল্ডাররা অপেক্ষায় রয়েছে এখন গতিশীল পুঁজিবাজারের। তবে ব্যাংকের নগদ লভ্যাংশ নিয়ে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেয়া সিদ্ধান্তকে তারা নেতিবাচকভাবেই দেখছেন। তারা মনে করেন, বিনিয়োগকারীদের বিশেষ করে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশই লভ্যাংশ আয়ের জন্য বিনিয়োগ করে থাকেন। এ ক্ষেত্রে তারা ভালো ব্যাংকগুলোকেই পছন্দের শীর্ষে রাখেন। কারণ এমনিতেই বাজারে ভালো কোম্পানির অভাব। সে হিসাবে ব্যাংকিং খাতই এ মুহূর্তে লভ্যাংশ আয়ের একটি প্রধান উৎস ছিল। এটি বাধাগ্রস্ত হলে বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে উৎসাহ হারাবে। যেখানে বাজারে স্থিতিশীলতা নেই সেখানে মূলধনী আয়ের সুযোগ নেই বললেই চলে। সে ক্ষেত্রে নগদ লভ্যাংশ বন্ধ করা হলে তারা পুঁজিবাজারের বাইরে অন্য কোনো বিনিয়োগ মাধ্যম খুঁজে নিতে বাধ্য হবেন।
এ দিকে দেশের শীর্ষস্থানীয় বৈদ্যুতিক তার প্রস্তুতকারী কোম্পানি বিআরবি ক্যাবল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড পুঁজিবাজারে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে বাজারে শেয়ার ইস্যু করে মূলধন সংগ্রহ করবে। এ সংক্রান্ত প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) সহযোগী প্রতিষ্ঠান আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডকে (আইসিএমএল) দায়িত্ব দিয়েছে কোম্পানিটি। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠান দু’টির মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় আইসিবি বিআরবি ক্যাবলসকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করতে অ্যাডভাইজরি এবং ইস্যু ম্যানেজমেন্ট সেবা দেবে।
গত রোববার (২৪ মে) কুষ্টিয়ায় বিআরবি ক্যাবল ইন্ডাস্ট্রিজের প্রধান কার্যালয় ও উৎপাদন কারখানায় এই চুক্তি সই হয়। অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাজেদা খাতুন, অতিরিক্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মল্লিক রওশন আলমসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তবে পুঁজিবাজারে বিআরবি ক্যাবলস আইপিওর কোন পদ্ধতিতে আসবে এবং মোট কত টাকা উত্তোলন করবে, সে বিষয়টি এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির অ্যাকাউন্টস বা হিসাব বিবরণী পর্যালোচনা করার পর মূলধন উত্তোলনের পরিমাণ ও এর পদ্ধতি চূড়ান্ত করা হবে বলে আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট সূত্রে জানা গেছে।
বর্তমানে দেশের পুঁজিবাজারে দু’টি ক্যাবলস প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত আছে। কোম্পানি দু’টি হচ্ছে-রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন ক্যাবলস ও বেসরকারি খাতের বিবিএস ক্যাবলস।



