দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় কৃষক মাহফুজুল ইসলাম হত্যাকাণ্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক ও একটি সংবাদমাধ্যমের মালিকপক্ষের পরিবারের সদস্যদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। পরিবার অভিযোগ, মামলার চার্জশিটে মূল হোতাদের নাম বাদ দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনও করে ভুক্তভোগী পরিবার।
জানা গেছে, হত্যা মামলা নিতে পুলিশের অনীহা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে সম্প্রতি ফেসবুক লাইভ ও একাধিক সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এসব তথ্য প্রকাশের পর বিষয়টি দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করে। প্রথম দিকে পার্বতীপুর থানা মামলা নিতে গড়িমসি করলেও জনচাপে পড়ে মামলা নেয় পুলিশ। তবে মামলা দায়েরের পরপরই সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম ও এতে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হুমকি, চাপ ও হয়রানির অভিযোগ সামনে আসে।
প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ভুক্তভোগী পরিবারের মামলা নিতে গড়িমসি। এমনকি পার্বতীপুর থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন নিহত কৃষকের ছেলেকে তার বাবার হত্যা মামলায় আসামি করার হুমকি দেন। এ-সংক্রান্ত একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ দিকে দিনাজপুরের তৎকালীন পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইন সংবাদ প্রকাশের আগেই সংশ্লিষ্ট সংবাদকর্মীদের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ দিকে গত ২৩ নভেম্বর পার্বতীপুর উপজেলার নিজ বাড়ির সামনে থেকে দ্য নিউজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ারুল ইসলামকে না পেয়ে তার বৃদ্ধ বাবা নূর মোহাম্মদ পাইকারকে আটক করে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের নির্দেশে তাকে টেনে-হেঁচড়ে থানায় নেয়া হয়। পুলিশের দাবি, নূর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে; তবে পরিবার জানায়, গ্রেফতারের আগে তিনি কোনো মামলার আসামি ছিলেন না এবং ২০২৩ সালেই সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান। নূর মোহাম্মদ দীর্ঘদিন ধরে সাঁওতালসহ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কল্যাণে কাজ করে আসছিলেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গেলে পার্বতীপুর থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং ভিডিও ধারণে বাধা দিয়ে মোবাইল ও ক্যামেরা জমা রাখতে নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।



