সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা
ঈদুল ফিতরের ছুটিতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগঁাঁওয়ের বিনোদন ও পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। উপজেলার অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন (সোনারগঁাঁ জাদুঘর)-সহ পানাম নগরী, বাংলার তাজমহল ও পিরামিড, বারদী ছটাকিয়ায় মেঘনারপাড়, বৈদ্যেরবাজার ঘাট, কাইকারটেক ব্রিজ এলাকা, পিরোজপুরে নীলদিগন্ত পার্কসহ বিভিন্ন বিনোদন স্পট দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে।
ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে ঈদের দিন থেকে শুরু করে ঈদের চতুর্থ দিন গতকাল মঙ্গলবারও পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ ও শিশুদের সরব উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। বিশেষ করে মুখরিত হয়ে উঠেছে লোক কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের জাদুঘর প্রাঙ্গণ। ঈদকে ঘিরে দর্শনীয় স্থানগুলোতে দর্শনার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা। দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে প্রবেশ পথের সড়কগুলোতে। যানজট এড়িয়ে অনেককে পায়ে হেঁটে বিনোদন কেন্দ্রমুখী হতে দেখা গেছে। ঈদ উপলক্ষে পরিবার-পরিজন নিয়ে পানাম নগরীতে ঘুরতে আসা নরসিংদীর মাধবদীর আফজাল প্রধান জানান, রাজধানী ঢাকার খুব কাছে হওয়ায় ঈদের ছুটিকে পরিবারের সাথে উপভোগ করতে প্রাচীন রাজধানী সোনারগঁঁাঁওয়ে ঘুরতে এসেছি। মুঘল আমলের প্রাচীন নিদর্শনের অসংখ্য নিদর্শন রয়েছে এখানে। পরিবার-পরিজন নিয়ে আমাদের খুবই ভালো লাগছে এখানে ঘুরতে এসে।
লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের জাদুঘরে বেড়াতে আসা চাকরিজীবী সালাউদ্দিন আরজু ও তার ভাই সফিউদ্দিন মজনু বলেন, আমরা দুই ভাই পরিবারকে নিয়ে ঈদের ছুটিতে এখানে ঘুরতে আসি। এখানে ইতিহাস সম্পর্কে অনেক শিক্ষণীয় বিষয় আছে। তাই বাচ্চাদের এখানে ঘুরতে নিয়ে এসেছি।
বাংলার তাজমহলে বেড়াতে আসা মুন্সীগঞ্জের সাব্বির ভূঁঁইয়া বলেন, ভারতে যাওয়ার সময় ও সুযোগ না থাকায় সপরিবারে সোনারগাঁওয়ে বাংলার তাজমহলে ঘুরতে এলাম। আগ্রার তাজমহলে যাওয়ার সৌভাগ্য না হলেও বাংলার তাজমহল দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য বিনোদন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে বাংলার তাজমহল অনন্য নিঃসন্দেহে। এটি গরিবের তাজমহল বলে আখ্যা দেয়া যায়।
তাজমহলের প্রতিষ্ঠাতা ও চিত্র পরিচালক আহসান উল্লাহ মনি জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে বাংলার তাজমহলে ও পিরামিডে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় হয়েছে। তিনি বলেন, দেশের দরিদ্র মানুষ, যাদের ভারতে গিয়ে আগ্রার তাজমহল দেখার সামর্থ্য নেই; তারা যেন তাজমহল দেখার স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন সে লক্ষ্যেই এটি নির্মাণ করেছি।
বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক সাখাওয়াত হোসেন জানান, এবারে আশানুরূপ দর্শনার্থীর সমাগম হয়েছে। দেশী-বিদেশী পর্যটকসহ কয়েক হাজার দর্শনার্থী জাদুঘরে আদিরূপ উপভোগ করতে ভিড় জমাচ্ছে। ঈদের দিন আমাদের ১০ হাজার টিকেট বিক্রি হয়েছে। ঈদের দিন থেকে গতকাল মঙ্গলবার অন্য বারের চেয়ে ভালো টিকিট বিক্রি হয়। পর্যটকদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার জন্য এখানে পর্যাপ্ত আনসার, পুলিশ এবং টুরিস্ট পুলিশ মোতায়েন ছিল।
সোনারগঁাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত জানান, সোনারগঁাঁওয়ে বহু বিনোদন ও পর্যটনকেন্দ্র তৈরি হওয়ায় পর্যটক বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ দিকে সোনারগঁাঁওয়ের দর্শনীয় স্থানগুলোতে পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে কর্তৃপক্ষের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি থানা পুলিশের মাধ্যমে অতিরিক্ত নিরাপত্তা দেয়া হয়েছে।



