নিজস্ব প্রতিবেদক
দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে থাকার পর মূল্যায়ন না হলে কষ্ট থেকে যায় বলে মন্তব্য করেছেন মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস। তিনি বলেন, নারীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হলে দেশ দ্রুত এগিয়ে যাবে। এতে দেশের মানুষও শান্তিতে বসবাস করতে পারবে। গতকাল শনিবার দুপুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে মহিলা দল আয়োজিত র্যালির আগে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আফরোজা আব্বাস বলেন, বিগত ১৮ বছর আমরা নারীরা রাজপথে যুদ্ধ করেছি। রাষ্ট্র ও দেশের প্রয়োজনে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় নেমেছিলাম। এখন যখন দেখি আমাদের প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে, তখন অনেক কষ্ট হয়। তিনি বলেন, দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করে নারীরা আজ একটি নতুন পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় যদি তাদের যথাযথ মূল্যায়ন না করা হয়, তবে তা হতাশার জন্ম দেয়। তবে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, শেষ পর্যন্ত সবাই তাদের প্রাপ্য সম্মান ও মূল্যায়ন পাবে।
নারী দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য প্রসঙ্গে আফরোজা আব্বাস বলেন, নারীর অধিকার, সমতা, রাজনৈতিক ভারসাম্য ও উন্নয়নের নিশ্চয়তা- এসব বিষয় আজ আর শুধু স্লোগান নয়, বরং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। ২০২৬ সালে এসে নারীর ক্ষমতায়নকে বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই এই বার্তার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জিয়াউর রহমান উপলব্ধি করেছিলেন যে দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। তাদের অবহেলিত রেখে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। সেই উপলব্ধি থেকেই তিনি নারীদের মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্ব দিয়েছিলেন।
মহিলা দলের সাবেক সভাপতি নুরী আরা সাফার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদের পরিচালনায় সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহসভাপতি নিলুফার চৌধুরী মনি, জাহান পান্না, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাহানা আকতার সানু, দফতর সম্পাদক শাহীনুর নার্গিস, আন্তর্জাতিক সম্পাদক মমতাজ আলম, মহানগর উত্তর সভাপতি রুনা লায়লা এবং দক্ষিণের সভাপতি রুমা আক্তার।
সমাবেশ শেষে নয়াপল্টন থেকে একটি র্যালি বের হয়। র্যালিটি নাইটিঙ্গেল মোড় ও কাকরাইল মোড় ঘুরে আবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।


